খরায় ফলন না পেয়ে চিন্তায় উপকূলের তরমুজ চাষিরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১২:১২ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০২১

বৃষ্টির দেখা নেই সাত প্রায় মাস। শুকিয়ে গেছে পুকুর ও ডোবানালা। বৈশাখের চলমান তাপদাহে পানির অধিকাংশ উৎস শুকিয়ে যাওয়ায় সেচ সমস্যায় বিপর্যস্ত সাতক্ষীরার তরমুজ চাষিরা। ফলে এ বছর তরমুজের আশানুরূপ উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ইশ্বরিপুর ও কৈখালী ইউনিয়নে উৎপাদিত রসালো ফল তরমুজের সুনাম রয়েছে। এখানে উৎপাদিত তরমুজের আকার ছোট হলেও স্বাদ অতুলনীয়। তবে এবার খরার কারণে তরমুজ চাষিরা উৎপাদন খরচ উঠবে কিনা তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন।

ধুমঘাট গ্রামের তরমুজ চাষি চিত্ত মন্ডল বলেন, ‘টানা সাতমাস বৃষ্টি হয় না। পুকুর ডোবা সব শুকিয়ে মাটি ফেটে যাচ্ছে। পাশের খালে নোনা পানি তুলে মাছ চাষ করে প্রভাবশালীরা। বোরিং করেও ভূ-গর্ভস্থ পানি ওঠে না। জমিতে এবার মোটেও পানি দিতে পারিনি। ফল যা ধরেছে তা সাইজে ছোট। কিছু ফল রোদে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।’

একই গ্রামের আরেক চাষি কার্তিক মন্ডল বলেন, ‘বাজারে চাহিদা থাকায় আমাদের গ্রামের শতাধিক কৃষক এবার তরমুজের চাষ করে। কিন্তু সময় মত বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন ভালো হয়নি। তাছাড়া ফড়িয়ারা দাম কম দিয়ে তরমুজ কিনছে। খেত থেকে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকায়। অথচ শহরে এই তরমুজ বিক্রি হয় ৪০ টাকা দরে। এবার খরচের টাকা উঠবে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত অনেকে।’

Tormuj

কৈখালি গ্রামের তরমুজ চাষি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘তিনি এক হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু এ বছর খরার কারণে তরমুজের সাইজ ছোট হয়ে যাচ্ছে। তরমুজর নিচের দিকে বাঁকা হয়ে যাচ্ছে । কিছু তরমুজ রোদে পুড়ে ভেতরে গাড় লাল রঙ হচ্ছে না এবং মিষ্টি কম হচ্ছে।’

কৈখালী গ্রামের তরমুজ চাষিরা বলেন, ‘অন্যান্য বছর তরমুজের ওজন হয় ১০ থেকে ১২কেজি। এবার বৃষ্টির অভাবে তরমুজের ওজন হয়েছে ২ থেকে ৫ কেজি। অনেক এলকায় শুকিয়ে যাচ্ছে তরমুজ খেত।’

শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম এনামুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় উচ্চ ফলন জাত ভারতের ভিফটপ, ড্রাগন, পাকিজা, বাংলালিংকসহ অন্যান্য জাতের তরমুজ চাষ হয়ে থাকে। তবে এ বছর বৃষ্টি না হওয়ার কারণে এবার তরমুজের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন হবে না।

পানি সংকটের কারণে শ্যামনগরে তরমুজের সাইজ ছোট হচ্ছে, বাঁকা হচ্ছে। আবার কোথাও পোকার আক্রমণ দেখা যাচ্ছে।’ আমরা কয়েকটি তরমুজ চাষির খেত পরিদর্শন করেছি। তরমুজ ফসলের খেতে পানি সংকটের অভাব মেটাতে সন্ধ্যার পর পানি স্প্রে করতে চাষিদের পরামর্শ দেয়া হয়ছে। এছাড়া পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে রাসায়নিক কীটনাশক স্প্রে করতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, গতবার তরমুজ চাষ হয়েছিল মাত্র ৫০ হেক্টর এবং উৎপাদন ছিল ৩০ মেট্রিক টন। বাজারে চাহিদা থাকায় এবার এক হাজার ৪০০ বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে।

আহসানুর রহমান রাজীব/এমএমএফ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]