পলিনেট হাউজে চারা উৎপাদন, বদলে যাচ্ছে কৃষি
আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার কৃষি। এখানে স্থাপিত ‘পলিনেট হাউজ’ এখন স্থানীয় কৃষকদের আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির মাধ্যমে উৎপাদিত উন্নতমানের চারা রোপণ করে উচ্চফলনশীল ফসল ফলিয়ে লাভের নতুন পথ খুঁজছেন চাষিরা।
রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত এই পলিনেট হাউজে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার কৃষক। গুণগত মান ভালো হওয়ায় এখান থেকে চারা নিয়ে ভালো ফলন পেয়েছেন অনেক কৃষক।

নওগাঁর মথুরাপুর ইউনিয়ন থেকে আসা কৃষক সামছুল হক বলেন, ‘এখানে আসছি চারা নিতে। গ্রিন বল বেগুনের চারা ৩০০ পিস কিনেছি। নিজেই জমিতে আবাদ করবো। এর আগে এখান থেকে চারা নিয়েছি। চারাগুলো বেশ ভালো হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। সেজন্য এবারও নিয়েছি।’
কৃষক খালেক হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি প্রথমবারের মতো ঝালের পুল নিতে আসছি। এক হাজার টাকা দিয়ে ৫০০ পিস পুল নিলাম। ৬ শতক জমিতে লাগাবো। এতে যদি ফলন ভালো হয় তাহলে আগামীতে এখান থেকেই বিভিন্ন ধরনের চারা কিনবো।’

আরও পড়ুন
মানিকগঞ্জে পেঁয়াজের চারা রোপণ শুরু, লক্ষ্যমাত্রা ৭০ হাজার টন
১৮ কাঠায় ২৬ সবজি, মেহেরপুরে কৃষক আবুল কালামের অনন্য সাফল্য
পলিনেট হাউজের পরিচর্যাকারী আবু রায়হান বলেন, ‘আমাদের এখানে বিভিন্ন ধরনের চারা পাওয়া যায়। মরিচ, বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বারোমাসি মরিচের চারাও পাওয়া যায়। ছাদ বাগানের টবে লাগানোর জন্য সবজির চারাও আছে। বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চারা আছে। আমরা সবকিছুতে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করি। চারা তৈরিতে কোকোপিট ব্যবহার করা হয়। কোকোপিটের চারা নষ্ট হয় না। চারাগুলো মাটির চারার থেকে বেশি উপকারী এবং ফলন ভালো হয়। এতে কৃষক বেশি লাভবান হন।’
পলিনেট হাউজের তত্ত্বাবধানে থাকা আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পলিনেট হাউজে উন্নতমানের সিজনাল সবজির চারা উৎপাদন করা হয়। এখানে দুজন কর্মচারী কাজ করেন। এখান থেকে আশপাশের কৃষকও সহজেই উন্নতমানের সবজির চারা পেয়ে থাকেন।’

আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আধুনিক পলিনেট হাউজের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পলিনেটের মধ্যে তাপমাত্রা এবং ময়শ্যার কন্ট্রোল করে আমরা উচ্চ ফলনশীল ফসল উৎপন্ন করতে পারি। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং কৃষকদের লাভের মুখ দেখানো।’
এসইউ