ঝালকাঠিতে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন : হাসি নেই কৃষকের মুখে
ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের কৃষকেরা মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন পেলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এখন হাসির পরিবর্তে কান্না চলছে। গত কয়েক দিনের ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির ফলে এখন চাষীদের মাথায় হাত দিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে।
কুমড়া চাষী আউয়াল (৪৫), জাকির (২২), মতুর্জ আলী (৫৫), শহিদুল (৩০) বলেন, আমরা জমিতে হাইব্রিড এবং দেশীয় জাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছি। আমাদের ফলনও ভালো হয়েছে। প্রত্যেকেরই হাজারের বেশি মিষ্টি কুমড়ার ফলন হয়েছে। সেগুলো সাইজেও অনেক বড় এবং স্বাদেও মিষ্টি। আমরা প্রত্যেকেই ৫ শতাধিক মিষ্টি কুমড়া বাড়িতে নিতে পেরেছি। কিন্তু মাঠে থাকা আরও ৫ শতাধিক মিষ্টি কুমড়া ৩ দিনের বৃষ্টিতে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর যা আগে থেকেই ঘরে উঠিয়ে রেখেছি তারও ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না।
প্রতিটি কুমড়া ২০/২৫ টাকা দরে পাইকাররা কিনে নিয়ে শহরে ৮০ থেকে দেড়`শ টাকা দরে বিক্রি করছে। মুনাফা পাচ্ছে মধ্যসত্ত্বভোগীরা। কোনো এগ্রো ফুড কোম্পানি যদি আমাদের এখানে এসে ন্যায্য দাম দিয়ে কুমড়া নেয় তাহলে প্রতিবছর এখানে মিষ্টি কুমড়ার চাষ বাড়তেই থাকবে। সঠিক দাম পেলে কৃষকরা মিষ্টি কুমড়া চাষে আরও আগ্রহী হবে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খায়রুল বাশার বলেন, মিষ্টি কুমড়া চাষ লাভজনক ফসল। প্রতি বছরই চাষীরা কুমড়া চাষে আগ্রহী হচ্ছে। জমিতে চাষ খরচ তেমন লাগে না। বীজ, জৈব সার এবং পানি সেচে মোট খরচ হয় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। কুমড়ার ফলন অনুযায়ী প্রতি চাষী ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার কুমড়া বিক্রি করতে পারে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আবুল হোসেন মিয়া বলেন, মিষ্টি কুমড়ার ফলন বেশ ভালোই হয়েছে। ভালো ফলনের জন্য ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ফসলের পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যেসব এলাকায় ধান চাষ কম হয় সে সব এলাকায় কম খরচে কুমড়া চাষ করে কৃষকরা লাভবান হতে পারে। এজন্য আবহাওয়ার দিকে কৃষকদের খেয়াল রাখতে হবে। যাতে করে ফসল নষ্ট হবার আগেই কৃষকদের ঘরে উঠে যায়। তাহলে ক্ষতির পরিমান অনেক কম হবে।
এসএস/এমএস