পাখির গ্রামকে পর্যটন এলাকা করার দাবি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ১২:১২ পিএম, ০৮ অক্টোবর ২০১৯

পাখির গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে জেলার মহাদেবপুর উপজেলার আলিদেওনা। উপজেলা সদর থেকে পশ্চিমে এ গ্রামের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। যে গ্রাম সারাক্ষণ পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত থাকে। গ্রামের গাছে গাছে হাজার হাজার পাখির আশ্রয়। যেন পাখির শব্দেই ঘুম ভাঙে এ গ্রামের মানুষের

জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে গ্রামের বাঁশঝাড়সহ বিভিন্ন বড় বড় গাছে আসতে শুরু করে নানা প্রজাতির পাখি। সেখানে গড়ে ওঠে পাখি কলোনি। গ্রামের মানুষের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় নিরাপদ আবাস। আশ্রয় নেওয়া বিভিন্ন প্রজাতির পাখির মধ্যে রয়েছে লাল বক, সাদা বক, শামুককল, রাতচোরা, সারস, মাছরাঙা, পানকৌড়ি ও ঘুঘুসহ নাম না জানা অসংখ্য পাখি।

Bird-cover

বর্তমানে গ্রামটির নাম হয়েছে পাখির গ্রাম। পাখির গ্রামে গেলেই মুগ্ধ হয়ে ওঠেন নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলার পর্যটকরা। স্থানীয়রা গ্রামটিকে পাখি শিকারমুক্ত এলাকা ঘোষণা করেছেন। গ্রামে প্রবেশের সময় দেখা যায়, সরু রাস্তার দুই ধারে থাকা গাছে গাছে লাগানো রয়েছে বিভিন্ন পাখির আদলে সাইনবোর্ড। এতে পাখি শিকার রোধে বিভিন্ন আইন ও সচেতনতামূলক উপদেশ লেখা রয়েছে।

পাখির নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন গ্রামের সবাই। ফলে সারা বছরই সেখানে অসংখ্য পাখির আগমন ঘটে। বিশেষ করে বাচ্চা দেওয়ার মৌসুমে শামুকখোল ও বকের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই মানুষের সমাগম ঘটে। পাখিদের বাড়তি নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় পাখিপ্রেমী, সমাজসেবী ও পরিবেশবিদরা সরকারিভাবে অভয়ারণ্য ঘোষণার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি করছেন।

Bird-cover

আলিদেওনা পাখি সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত নির্মল বর্মন বলেন, ‘প্রকৃতির বন্ধু পাখি। তাদের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এ গ্রামে গড়ে উঠেছে পাখির আবাসভূমি। পাখি শিকারীদের গ্রামে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বা অন্য কোন কারণে পাখিরা আহত হলে চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। গ্রামটি পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে উঠলে রাজস্ব বাড়বে। সেই সাথে বেকারদেরও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।’

Bird-cover

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, ‘জেলার আলিদেওনা গ্রামটি ঐতিহ্যবাহী পাখির গ্রাম হিসেবে সারাদেশের মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছে। পাখির অভয়ারণ্যসহ গ্রামটিকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করছি।’

আব্বাস আলী/এসইউ/এমকেএইচ