মৌলভীবাজারে ধান তোলার উৎসব

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০১:৩৮ পিএম, ২৬ আগস্ট ২০২১

চলতি মৌসুমের শেষ সময়ে আউশ রোপণ করতে পারায় জেলার কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, মৌসুমের শেষের দিকে সুবিধামতো রোদ বৃষ্টি থাকায় অল্প দিনেই আউশের ফলন ভালো হয়েছে। মৌলভীবাজারের গ্রামে গ্রামে চলছে এখন আউশ ধান তোলার উৎসব।

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি আউশ মৌসুমে জেলায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৬ হাজার ৫৯৩ হেক্টর। এরমধ্যে উৎপাদন হয়েছে ৪৭ হাজার ২২৫ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় এবার কম জমিতে আউশ ধান চাষ করা হলেও ফলন ভালো হয়েছে।

সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে সার, পোকামাকড় ও আগাছা দমনসহ বিভিন্ন বিষয়ে উপযুক্ত সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করে চাষিদের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। যে কারণে এ বছর আউশ ধানের ভালো ফলন হয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়।

jagonews24

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের মাসকান্দি, ঘাগটিয়া, ফতেপুর গ্রামের কৃষকরা জানান, বর্ষার শুরুতে জমিতে পানি জমেনি। আমরা আউশ ধান রোপণ করতে দেরি হয়েছে। কথা হয় কৃষক সেলিমের সাথে। তিনি জানান, দেরিতে হলেও প্রয়াজনীয় রোদ বৃষ্টি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ থাকায় ক্ষেতে ভালো হয়েছে এতে আমরা খুশি।

কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নসহ শমশেরনগর, রহিমপুর, মুন্সিবাজার, পতনঊষার ঘুরে দেখা যায় আউশ ধান ঘরে তুলতে কৃষাণ-কৃষাণি কারও যেন একটুও বিরাম নেই। চারদিকে এখন ধান কেটে ঘরে তোলার প্রতিযোগিতা।

কৃষকরা অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়ে নিজ নিজ জমির আউশ ধান কাটাছেন। কেউ আবার মেশিন দিয়ে মাড়াই করছেন, খড় থেকে ধান ছাড়াচ্ছেন, কোথাও আবার রাস্তায় খড় ও ধান রোদে শুকাচ্ছেন।

মুন্সিবাজারের কৃষক আব্দুস ছামাদ জানান, এবার শুরু থেকে পানির অভাবে অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমার ৩ একর জমিতে আউশ ধান চাষ করেছি, ফলনও ভালো হয়েছে। ধান তুলতে ও শুকাতে কিছুটা কষ্ট পেতে হচ্ছে। আকাশে কিছু সময় বৃষ্টি আবার কিছু সময় রৌদ্র এবং বৃষ্টির পানিতে উঠান ভেজা থাকায় আমাদের ধান শুকাতে সমস্যা হচ্ছে।

jagonews24

রাজনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দত্তগ্রামের কৃষক আব্দুর রকিব বলেন, বষার্র ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় প্রায় ১০ একর আউশ জমি চাষাবাদ করতে পারেনি। আউশের চারা রোপণে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবে অল্প অল্প বৃষ্টিপাতের মাঝে ৫ একর আউশ জমি চাষ করেছি তাতে ফসল ভালো হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে আরও কিছু জমি চাষ করা যেতো। তবে ফসল ভালো হওয়ায় এখন আনন্দ লাগছে। বউ বাচ্চাকে নিয়ে শান্তিতে ভাত খেতে পারবো।

কুলাউড়ার কৃষক জমির মিয়া জানান, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমবে। এই ভরসায় তুলনামূলক উঁচু জমিতে আমরা আউশ ধান চাষ করি। এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চাষাবাদ দেরিতে হয়েছে। প্রয়োজনীয় জমিতে চাষাবাদ করা যায়নি।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুলবারি বলেন, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চলতি বছর আউশ চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে। আমরা কৃষকদের সব ধরণের সহযোগিতা করায় ফলন ভালো হয়েছে এতে কৃষকরা খুশি।

আব্দুল আজিজ/এমএমএফ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]