অপেক্ষা ভোটের

কড়া গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়

তৌহিদুজ্জামান তন্ময়
তৌহিদুজ্জামান তন্ময় তৌহিদুজ্জামান তন্ময় , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৩১ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী/এআই নির্মিত ছবি
  • দাগি ও চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা নজরদারিতে
  • সন্দেহভাজনদের দূর থেকেই গতিবিধি পর্যবেক্ষণে গোয়েন্দারা
  • বডি-ওর্ন ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক লাইভ মনিটরিং
  • ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে নজরদারি জোরদার

ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ। অপেক্ষা এখন ভোটগ্রহণের। ভোট দিতে গ্রামে যাওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলো এখন অনেকটা ফাঁকা। যান চলাচলও সীমিত। এরই মধ্যে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ২৯৯টি সংসদীয় আসনে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত একযোগে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি।

এবার প্রযুক্তির দিক থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন। প্রযুক্তির সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬ অ্যাপ’। এ অ্যাপ ব্যবহার করবেন ১ লাখ ২৮ হাজার ২৮৩ আনসার সদস্য। মুহূর্তেই তথ্য পেয়ে যাবে অন্য বাহিনীর সদস্যরা। এরপর ব্যবস্থা নেবে তাৎক্ষণিকভাবে।

গোয়েন্দা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচন কেন্দ্র করে জেল পলাতক ৭০০ আসামি, জামিনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অন্য সন্ত্রাসীদের ওপর সার্বক্ষণিক বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও নজরদারিতে। অনলাইনে কেউ যাতে মিথ্যা বা ভুয়া তথ্য ছড়াতে না পারে সেক্ষেত্রে সাইবার ওয়ার্ল্ডেও নজরদারি চলছে।

ঢাকার মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট

নির্বাচন উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে শুরু হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। তল্লাশি করা হচ্ছে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত শাহবাগ। সেখানে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। প্রাইভেটকার কিংবা বাইক এলে থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ বিভিন্ন কথাও জিজ্ঞাস করছেন। শাহবাগ ছাড়াও হাতিরঝিল, কাওরানবাজার, রামপুরা, ফার্মগেট, মিরপুর, বনানী, গুলশান, বাড্ডা ও উত্তরায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেকপোস্ট বসিয়েছে বলে জানা যায়।

প্রযুক্তির সহায়তায় নজরদারি

দাগি ও চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী, উগ্রবাদ ও নাশকতাকারী, অস্ত্রধারী, বোমা তৈরির কারিগরসহ নাশকতায় যুক্ত অপরাধীদের ধরতে গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান। বিশেষ করে প্রযুক্তির সহায়তায় নজরদারি বৃদ্ধি, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পর্যাপ্ত পরিমাণ ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও ভোটকেন্দ্রে এবং কেন্দ্রের বাইরে সন্দেহভাজন ভোটার, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও দায়িত্বরত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং কর্মকর্তাদেরও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে জেলা মনিটরিং অপারেশনস কমান্ড ও কন্ট্রোল রুম।

কোন বাহিনীর কত সদস্য মোতায়েন

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ লাখ সদস্য, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ (স্থলভাগ-১ হাজার ২৫০), পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫, র‍্যাবের ৭ হাজার ৭০০ এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ১৩ হাজার ৩৯০ জন। মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় প্রায় ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

এছাড়া যে কোনো সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্পেশাল ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র

পুলিশের তথ্যানুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সারা দেশে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৬ হাজার ৩৫৯টি। ঝুঁকি নেই এমন ভোটকেন্দ্র (সাধারণ) ১৭ হাজার ৬৫৬। ঢাকা মহানগরীতে ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে ডিএমপি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, এবার মহানগর এলাকার বাইরে সারা দেশে প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৬ থেকে ১৭ জন সদস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ থেকে ১৮ জন মোতায়েন থাকবেন। আর মহানগর এলাকার সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন থাকবেন। দুর্গম ঘোষিত ২৫ জেলার নির্দিষ্ট এলাকার ভোটকেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৮ জন করে সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এসব সদস্য ভোটগ্রহণের দুদিন আগে থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে রোববার পর্যন্ত দেশের চারটি মহানগর ও পাঁচটি বিভাগের ৩৪টি টার্গেট শুটে ১০ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ২, ঢাকা বিভাগে ২, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ এবং খুলনা বিভাগে ৩ জন রয়েছেন। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের তথ্য বলছে, ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

প্রথমবারের মতো ড্রোন ব্যবহার

এবারই প্রথমবারের মতো নির্বাচনের উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে ড্রোনের ব্যবহার। নির্বাচনে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ২০০টি, নৌ-বাহিনী ১৬টি, বিজিবি ১০০টি, বাংলাদেশ পুলিশ ৫০টি, কোস্টগার্ড ২০টি, র‌্যাব ১৬টি ও বাংলাদেশ আনসার এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১৬টি ড্রোন পরিকল্পনা অনুযায়ী সমন্বিতভাবে ব‍্যবহার করা হবে। এছাড়া নির্বাচনে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন বাহিনী তাদের ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করবে।

এবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে সহিংসতা বেশি

তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত হয়েছেন পাঁচজন। সহিংস ঘটনাগুলোকে ১১টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে। তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৮৯টি। সহিংসতার তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে নির্বাচনি প্রচারকাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা। এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ২৯টি। তৃতীয় সর্বোচ্চ সহিংসতা হয়েছে নির্বাচনি অফিস ও প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে।

দেশের রাজনীতিতে আলোচনা হলো- এবার আওয়ামী লীগ অংশ না নিলেও নির্বাচন যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হচ্ছে। বিশেষ করে, বড় দুটি দল বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে- এমন ধারণা বেশিরভাগ মানুষের।

কেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত থাকবেন সেনাসদস্য

ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে যাতায়াত ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবার প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সারা দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬২টি জেলায় ৪১১টি উপজেলায় এবং মেট্রোপলিটন শহরগুলোতে সর্বমোট ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে নিয়মিত টহল যৌথ অভিযান ও চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধার ও শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন অপরাধী গ্রেফতার কার্যক্রম চলমান রেখেছে।

বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার প্রস্তুত

নির্বাচনে প্রথমবার বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও দ্রুত পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশ বিমানবাহিনী হেলিকপ্টার ও ড্রোন প্রস্তুত রেখেছে। বিশেষ করে ভোলাসহ উপকূলীয় ও দুর্গম চরাঞ্চলে নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে নির্বাচনি সরঞ্জাম পরিবহন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত রেসপন্স করার জন্য বিমানবাহিনী স্ট্যান্ডবাই থাকবে।

বিজিবির নিরাপত্তা

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) শতভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এরই মধ্যে দেশের প্রায় প্রত্যেকটি নির্বাচনি বেজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন বিজিবি মহাপরিচালক। নির্বাচনে বিজিবি সারা দেশে এক হাজার ২১০ প্লাটুন এবং ৩৫ হাজার থেকে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা দেশের ৬৪টি জেলার ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে দায়িত্ব পালন করছেন। ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তসহ সব সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্রপাচার রোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ওইসব এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি হেলিকপ্টার, ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করছে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‌্যাট) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও দুর্গম পার্বত্য এলাকায় হেলিকপ্টারের সহায়তায় বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি ও ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

উপকূলীয় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা

উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চল- ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, কক্সবাজার এবং সেন্টমার্টিনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার ও কোস্টগার্ডের তিন হাজার সদস্য নিরাপত্তায় কাজ করবে।

পুলিশ যা বলছে

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য নগরবাসীর নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে নাগরিক অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ ১ হাজার ৬১৪টি ভোটকেন্দ্রে চারজন করে এবং সাধারণ ৫১৭টি ভোটকেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া আমরা আরও ৩৭টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে চিহ্নিত করেছি। এই ৩৭টি কেন্দ্রে সাতজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি জানার জন্য একজন করে পুলিশ সদস্যের কাছে থাকবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা।’

১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন হিসেবে আয়োজন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।

তিনি বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্ট্যাটিক ফোর্স থাকবে, কেন্দ্রের বাইরে মোবাইল টিম টহল দেবে এবং যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স। সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬ হাজার কেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।

অস্ত্র উদ্ধার ও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে আইজিপি বলেন, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র নির্বাচনকালীন বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত।

নির্বাচনে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ওই রকম জঙ্গি হামলার তীব্র আশঙ্কা করছি না। তবে আমরা উড়িয়েও দিচ্ছি না। ফুলফ্রেম ব্যবস্থা রেখেছি।

নির্বাচন ঘিরে সংঘাতের শঙ্কার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘নির্বাচন কেন্দ্রে করে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যে কারণে সংঘাত ও সহিংসতার যথেষ্ট শঙ্কা আছে। পুলিশের কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের এখনো একটা অংশ উদ্ধার হয়নি। সীমান্ত হয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। বিগত সময়ের বৈধ অস্ত্রও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জমা পড়েনি। এর সঙ্গে এআইয়ের ব্যবহার, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তপ্ত কনটেন্ট বিনিময়, মব সহিংসতা, ভোটের মাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আধিপত্য বিস্তার- এসব নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

টিটি/এএসএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।