সুকুমার রায়ের মজার গল্প: হিংসুটি

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:২৩ পিএম, ২১ জুন ২০২২
প্রতীকী ছবি

এক ছিল দুষ্টু মেয়ে বেজায় হিংসুটে, আর বেজায় ঝগড়াটে। কিন্তু হিংসুটির দিদি বড় লক্ষ্মী মেয়ে যেমন কাজে কর্মে, তেমনি লেখাপড়ায়। হিংসুটির বয়স সাত বছর হয়ে গেল, এখনো তার প্রথম ভাগই শেষ হল না। অন্যদিকে তার দিদি তার চাইতে মাত্র এক বছরের বড়, সে এখনই ‘বোধোদয়’ আর ‘ছেলেদের রামায়ণ’ পড়ে ফেলেছে, ইংরেজি ফার্স্টবুক তার কবে শেষ হয়ে গেছে!

হিংসুটি সবাইকে হিংসে করে, এমনকি তার দিদিকেও হিংসে করত। দিদি স্কুলে যায়, প্রাইজ পায়, হিংসুটি খালি বকুনি খায় আর শাস্তি পায়। দিদি যেবার ছবির বই প্রাইজ পেলে আর হিংসুটি কিচ্ছু পেলে না, তখন যদি তার অভিমান দেখতে! সে সারাটা দিন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে গাল ফুলিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে বসে রইল, কারো সঙ্গে কথাই বললো না। তারপর রাতের বেলা দিদির অমন সুন্দর বইখানাকে কালি ঢেলে, মলাট ছিঁড়ে, কাদায় ফেলে নষ্ট করে দিল। এমন দুষ্টু হিংসুটে মেয়ে।

একদিন হিংসুটির মামা এসেছেন তাদের বাড়িতে। তিনি মিঠাই এনে দুবোনকেই আদর করে খেতে দিয়েছেন। হিংসুটি খানিকক্ষণ তার দিদির খাবারের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেলল। মাম ব্যস্ত হয়ে বললেন, কি রে, কী হলো? জিভে কামড় লাগল নাকি?

হিংসুটির মুখে আর কথা নেই, সে কেবলই কাঁদছে। তখন তার মা এক ধমক দিয়ে বললেন, কী হয়েছে বল না! তখন হিংসুটি কাঁদতে কাঁদতে বলল, দিদির ঐ রসমুণ্ডিটা আমারটার চাইতেও বড়। তাই শুনে দিদি তাড়াতাড়ি নিজের রসমুণ্ডিটা তাকে দিয়ে দিল। অথচ হিংসুটি নিজে যা খাবার পেয়েছিল তার অর্ধেক সে খেতে পারল না, নষ্ট করে ফেলে দিল। দিদির জন্মদিনে দিদির নতুন জামা, নতুন কাপড় আসলে হিংসুটি তাই নিয়ে চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় তোলে।

একবার হিংসুটি তার মায়ের আলমারি খুলে দেখে লাল জামা গায়ে, লাল জুতা পায়ে, টুক্টুকে রাঙা পুতুল বাক্সের মধ্যে শুয়ে আছে। হিংসুটি বলল, দেখেছ! দিদি কি দুষ্টু! নিশ্চয়ই মামার কাছ থেকে পুতুল আদায় করেছে আবার আমায় না দেখিয়ে মায়ের কাছে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তখন তার ভয়ানক রাগ হলো। সে ভাবলো, আমি তো ছোট বোন, আমারই তো পুতুল পাওয়া উচিত। দিদি কেন মিছিমিছি পুতুল পাবে? এই ভেবে সে পুতুলটাকে উঠিয়ে নিল।

কি সুন্দর পুতুল! কেমন মিট্মিটে চোখ, আর ফুট্ফুটে মুখ, কেমন কচি কচি হাত পা, আর টুকটুকে জামা কাপড়! যত সব ভালো ভালো জিনিস সব কি না দিদি পাবে! হিংসুটির চোখ ফেটে জল এলো। সে রেগে পুতুলটাকে আছড়িয়ে মাটিতে ফেলে দিল। তাতেও তার রাগ গেল না; সে একটা ডাণ্ডা নিয়ে ধাঁই ধাঁই করে পুতুলটাকে মারতে লাগল। মারতে মারতে তার নাক মুখ হাত পা ভেঙে, তার জামা কাপড় ছিঁড়ে আবার তাকে বাক্সের মধ্যে ঠেসে সে রাগে গরগর করতে করতে চলে গেল।

বিকেলবেলা মামা এসে তাকে ডাকতে লাগলেন আর বললেন, তোর জন্য কি এনেছি দেখিসনি? শুনে হিংসুটি দৌড়ে এলো, কই মামা, কী এনেছ দাও না।

মামা বললেন, মার কাছে দেখ গিয়ে কেমন সুন্দর পুতুল এনেছি। হিংসুটি উৎসাহে নাচতে লাগল, মাকে বলল, কোথায় রেখেছ মা? মা বললেন, আলমারিতে আছে। শুনে ভয়ে হিংসুটির বুকের মধ্যে ধড়াস ধড়াস করে উঠল। সে কাঁদ কাঁদ গলায় বললো, সেটার কি লাল জামা আর লাল জুতো পরানো, মাথায় কালো কালো কোঁকড়ানো চুল ছিল? মা বললেন, হ্যাঁ, তুই দেখেছিস নাকি?

হিংসুটির মুখে আর কথা নেই! সে খানিকক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে তারপর একেবারে ভ্যাঁ করে কেঁদে এক দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে গেল।

লেখা: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রিয় পাঠক, আপনিও অংশ নিতে পারেন আমাদের এ আয়োজনে। আপনার মজার (রম্য) গল্পটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়। লেখা মনোনীত হলেই যে কোনো শুক্রবার প্রকাশিত হবে।

কেএসকে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]