কেসিসিতে শর্ত অমান্য করে প্রকল্পের মালামাল ক্রয়ের অভিযোগ


প্রকাশিত: ১১:৪৮ এএম, ২৯ মার্চ ২০১৬

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আলোচিত সেই আট কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে অ্যাসফল্ট প্লান্ট স্থাপন প্রকল্পের মালামাল ক্রয় দরপত্রের শর্ত অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের জন্য মনোনীত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বেলাল অ্যান্ড ব্রাদার্স দরপত্রের শর্ত বর্হিভূতভাবে তুরস্ক থেকে মালামাল আমদানি করে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের যোগসাজসে তা কাজে লাগানোর পাঁয়তারা করছে। কাজটি বাস্তবায়নের জন্য বৃহস্পতিবার ওয়ার্ক অর্ডারও দেয়া হয়েছে।

ফলে কাজের গুণগতমান নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রকল্প পরিচালক বলছেন অন্য দেশের চেয়ে তুরস্কে কম মূল্যে জিনিসপত্র পাওয়া গেছে। এ কারণে সেখান থেকে মালামাল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে যাচাই-বাছাই করেই সব জিনিসপত্র নেয়া হবে বলেও জানান প্রকল্প পরিচালক।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রায় আট কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে অ্যাসফল্ট প্লান্ট স্থাপন উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি। আর এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ২৮ জানুয়ারি তৃতীয় বারের মতো টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু টেন্ডারটি সিন্ডিকেটের জন্য ওই দিন খুলনার সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতার নেতৃত্বে তার অনুসারীরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নগর ভবনে সশস্ত্র পাহারা দেয়। ফলে দরপত্রের সিডিউল কিনেও জমা দিতে ব্যর্থ হন ঠিকাদাররা। পাঁচটি সিডিউল বিক্রি হলেও শেষ সময়ের মধ্যে সরকার কবির আহমেদ, মেসার্স বেলাল অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং এম শহিদুল ইসলাম সেনাকল্যাণ সংস্থার নামে এ তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শিডিউল জমা পড়ে।

এ অবস্থায় কর্পোরেশনের টেন্ডার ইভোলোশন কমিটি (টিইসি) সভায় মেসার্স বেলাল অ্যান্ড ব্রাদার্সকে কাজটি দেয়ার সুপারিশ করা হয়। সেই সুপারিশ ও কর্পোরেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেসার্স বেলাল অ্যান্ড ব্রাদার্সকে প্রকল্পটির কাজ দেয়া হয়।

দরপত্রের শর্তে উল্লেখ ছিল জার্মান, ইউএসএ, কোরিয়া বা ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে যাবতীয় মালামাল ক্রয়ে করতে হবে। কিন্তু কেসিসির মনোনীত ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের শর্ত ভেঙে তুরস্ক থেকে মালামাল আমদানি করছে। ফলে ওই সকল মালামাল দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলে কাজের গুণগতমান নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক ও কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আব্দুল আজিজ বলেন, অন্যান্য দেশের চেয়ে তুরস্কে জিনিসপত্রের দাম তুলনামূলক কম। সে কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে যাচাই-বাছাই করেই নেয়া হবে।

তবে কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নাজমুল ইসলাম এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এর আগে প্রথম দুই দফা দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারদের যথাযথ যোগ্যতা না থাকায় কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজসে দরপত্রের শর্ত শিথিল করে তৃতীয় বারের মতো এ দরপত্রে আহ্বান করা হয়। দুইবারই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে একটি অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেবার সিদ্ধান্ত নেন প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের যথাযথ যোগ্যতাও ছিল না। আর এ নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় খবরও প্রকাশিত হয়। যার ফলে ওই দরপত্র বাতিল করতে বাধ্য হয় কেসিসি। এসব নিয়ে পুরো কর্পোরেশন জুড়ে সমালোচনা ঝড়ও উঠে।

আলমগীর হান্নান/এআরএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।