চলচ্চিত্রের সুদিন এখনো ফিরেনি : নায়করাজ


প্রকাশিত: ০৭:১৮ এএম, ০৩ এপ্রিল ২০১৬
ছবি : মাহবুব আলম

তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থার (বিএফডিসি) তত্ত্বাবধানে আজ রোববার, ৩ এপ্রিল পালিত হচ্ছে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। এই উপলক্ষে সারা দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে এফডিসিতে।

তারমধ্যে সকাল ১০টায় ছিলো চলচ্চিত্র দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও শোভাযাত্রা। কিন্তু এই আয়োজনগুলোতে চোখে পড়েনি উল্লেখ করার মতো কোনো তারকা। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাউকেই দেখা যায়নি এফডিসির আশপাশে। ছিলেন না শিল্পী সমিতির কোনো লোকজন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আজকালকার অভিনয়শিল্পীদের চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের অভাব রয়েছে বলে দাবি করেছেন নায়করাজ রাজ্জাক।

এফডিসির ঝরণা স্পটের পাশে সকাল ১০টায় চলচ্চিত্র দিবস উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এখানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার, তথ্যসচিব মরতুজা আহমদ।

Razak

উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সময় নায়করাজ রাজ্জাক বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের চলচ্চিত্র দিবস উপহার দিয়েছেন। সরকার নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ইন্ডাস্ট্রির সুদিন ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গেই বলতে হয় আমরা যারা চলচ্চিত্রের মানুষ তারা কোনো দায়িত্ব নিচ্ছি না। নইলে আজ জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে সবাই ঘরে বসে থাকতাম না। পৃথিবীর আর কোনো দেশে চলচ্চিত্র দিবস নেই। বলিউডে এই দিবস থাকলে সেটাকে বিশ্বময় তারা ছড়িয়ে দিত তারকাদের অংশগ্রহণে। আর আমাদের তারকাদের খুঁজেই পাওয়া গেল না উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। অথচ, তারকাদের জন্য হাঁটা যায় না। কতো নাম, কতো বাহার। কিন্তু চলচ্চিত্রের প্রতি তাদের টান যে বিন্দুমাত্র নেই সেটা বুঝা যায় তাদের দায়িত্বহীনতা দেখলেই। খুব দুঃখ নিয়ে বলছি- কোথায় তথাকথিত সুপারস্টাররা? আজকের দিনে কাউকে এখনে দেখছি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তান আমলে হিন্দি উর্দু ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হয়েছে। কিন্তু আজকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র কোথায় গেছে? না খেয়ে কষ্ট করে আমরা যে চলচ্চিত্র সৃষ্টি করেছিলাম তা আজকে কোথায়? সরকার চেষ্টা করলে হবে না। চেষ্টা করতে হবে আমাদের। আমরা কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারছি না যে আমরা চলচ্চিত্র বানাচ্ছি। চলচ্চিত্রের নামে যা হচ্ছে সেগুলোকে খেলাই বলা চলে। নায়ক বানানোর খেলা, নায়িকা বানানোর খেলা, তারকা খ্যাতির খেলা। চলচ্চিত্র গোল্লায় গেল কি না সেটা ভাবার সময় নেই কারো। কিছুদিন আগেও মনে হতো চলচ্চিত্রের সুদিন বুঝি এসেছে। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে না, আরো অনেক সময় লাগবে। ঠিক যতদিন চলচ্চিত্র বান্ধব, এফডিসি বান্ধব তারকা না জন্মাবে ততদিন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি হবে না।’

Film 4

তার আগে প্রধান অতিথি তথমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘এক বছর আগে আজকের এই দিনে বলেছিলাম এফডিসির আধুনিকায়নের সব কাজ সম্পন্ন করবো। ইতোমধ্যেই সাইন্ড, কালার মিক্সিং, ল্যাবসহ বেশকিছু কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ দু’এক মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করছি।’

চলচ্চিত্র ইনস্টিটিউট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই ইনস্টিটিউটের জন্য ইতিমধ্যেই জমি নির্ধারন করা হয়েছে। শিগগির নিজস্ব ভবনের কাজও শুরু হবে।’

কবিরপুর ফিল্ম সিটি প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ফিল্ম সিটি নির্মাণের জন্য কবিরপুরে ১০৭ একর জায়গা বরাদ্দ রয়েছে। এর নাম হবে বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি। এর কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যেই এখানে শুটিং করার মত পরিবেশ তৈরি করা হবে।’

Razak

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্রের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। সেই ১৯৫৭ সালে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক পরিষদে বিল উত্থাপনের মাধ্যমে চলচ্চিত্র যাত্রা শুরু করেছিলেন। আমি তখন তরুণ, পূর্ব পাকিস্তানে তখন ভারত-পাকিস্তান এমনকি হলিউডের ছবিও চলত। সেই প্রতিযোগিতার মধ্যে আমাদের দেশের কলাকুশলী ও নির্মাতারা অসীম সাহসের সঙ্গে কাজ করেছেন। কিন্তু মাঝে আমরা কিছুদিন হতাশার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম। সেটা আবার কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছি। এজন্য চাই চলচ্চিত্রের প্রতি নিখুত ভালোবাসা ও টান।’

এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমাদের সৌভাগ্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদে চলচ্চিত্র বিল উত্থাপন করেছিলেন। তাই আমরা চলচ্চিত্রের একটা শক্ত কাঠামো পেয়েছি। আমাদের অনেক সমস্যা আছে বৈকি। আশা করি নবীন-প্রবীণের মেলবন্ধনে চলচ্চিত্রের সোনালী দিন ফিরবে।’

Film 3

তথ্য সচিব মরতুজা আহমেদ বলেন, ‘আমাদের জীবনে এটি উল্লেখ্যযোগ্য ঘটনা যে বিশ্বের আর কোথাও জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস নেই।’

চলচ্চিত্র ডিজিটাল লাইজেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রে ডিজিটাল প্রকল্প এবারই সম্পূর্ণ রূপ লাভ করতে যাচ্ছে। এটি আমাদের চলচ্চিত্রে সুফল বয়ে আনবে।’

এলএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।