প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে অসদাচরণ: হল থেকে ছাত্রলীগ নেতা স্থায়ী বহিষ্কার


প্রকাশিত: ০৬:২১ পিএম, ০৬ এপ্রিল ২০১৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করায় এক ছাত্রলীগ নেতাকে হল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে হল ছাড়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার হল কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বহিষ্কৃত ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম ওবাইদুল কবির রিক্ত। তিনি চারুকলা অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং মৃৎশিল্প বিভাগে মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তার হল ত্যাগের বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিককে চিঠিও দিয়েছেন হল কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে হলের আবাসিক শিক্ষকরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে হলের বিভিন্ন রুম পরিদর্শনে যান। এসময় ছাত্রলীগ নেতা রিক্তর ৩০৫ নম্বর রুমের খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে রিক্তের পরিচয়পত্র দেখতে চান শিক্ষকরা। কিন্তু কার্ডের মেয়াদ না থাকায় শিক্ষকরা বলেন, ‘তুমি তো অবৈধ শিক্ষার্থী।’

এতে রিক্ত অনেকটা বিরক্ত হয়ে নিজেকে চারুকলা অনুষদের সেক্রেটারি বলে পরিচয় দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদকে মুঠোফোনে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপরই রিক্ত পরিদর্শনে যাওয়া শিক্ষকদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে যান। এক পর্যায়ে বিষয়টি শিক্ষকরা হল প্রাধ্যক্ষকে জানালে তিনিও ঘটনাস্থালে হাজির হন। প্রাধ্যক্ষের সামনেও রিক্ত অসদাচারণ করে বলে অভিযোগ শিক্ষকদের। তাই প্রাধ্যক্ষ ওই ছাত্রলীগ নেতার পরিচয়পত্র নিয়ে চলে আসেন।

রিক্তর এমন আচরণে অসন্তুষ্ট শিক্ষকরা তাৎক্ষণিক দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানিয়ে পদত্যাগ করার বিষয়টি প্রাধ্যক্ষকে জানায়। তাই ওই রাতেই সভা ডেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সিদ্ধান্ত নেয় হল কর্তৃপক্ষ।

প্রাধ্যক্ষ নিজামুল হক ভূইয়া বলেন, আবাসিক শিক্ষকদের সঙ্গে আসদাচরণ ও শিক্ষার্থীসুলভ আচরণ না করায় তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নিতে উপাচার্যকে চিঠি দেয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হল ছেড়ে দিতে হবে তাকে। শুধু এই ঘটনাও না, এর আগেও সে শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে বলেও জানান প্রাধ্যক্ষ।

এ বিষয়ে ওবাইদুল কবির রিক্ত বলেন, শিক্ষকরা কক্ষে গেলে কার্ড দেখতে চান। এসময় কার্ডের মেয়াদ না থাকায় আমাকে অবৈধ শিক্ষার্থী হিসেবে আখ্যা দেন তারা। তখন আমি চারুকলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে প্রক্টরকে ফোন দেই। এটাকে বেয়াদবি করা হয়েছে আখ্যা দিয়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি ঠিক হয়ে যাবে।

এমএইচ/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।