৬ দফার দাবি শুধু বাঙালির নয়, পাকিস্তানেরও ছিল


প্রকাশিত: ০৯:২৯ এএম, ০৪ জুন ২০১৬

১৯৬৬ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফার দাবি শুধু বাঙালির নয়, গোটা পাকিস্তানেরও ছিল। যেদিনটি ছিল ইতিহাসের একটি মাইলফলক।

শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে “৬ দফার ৫০ বছর” পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। রোড টু ফ্রিডম এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

অধ্যাপক মাহফুজা খানমের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুহ উল আলম লেনিন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, পাকিস্তান ভাঙার একটি প্রস্তাব ছিল ছয় দফায়। বাঙালি জাতির অধিকার ও স্বাধিকারের কথা আলোচিত ছিল এই ছয় দফায়। ছয় দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। আর এর মূল প্রেরণার উৎস ছিল ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব।

বক্তারা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু রাজনীতি বিষয়ে দূরদর্শী ছিলেন না, তিনি কুশলীও ছিলেন। বাঙালি জাতি কীভাবে জীবন পরিচালিত করবে সেটি এই ছয় দফায় অন্তর্গত ছিল। ছয় দফায় দুই প্রদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতির বিষয়ও বলা ছিল।

ছয় দফার বির্তক নিয়ে তারা বলেন, ছয় দফা সিআইএ এর করে দেয়া রিপোর্ট বা দলিল বলে যেটা প্রকাশিত হয়েছিল সেটা ভুল। মাওলানা ভাসানীও এই ছয় দফার বিরোধিতা করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই ছয় দফা এসেছে। ১৯৭০ সালের নির্বাচন ছিল ছয় দফার মেন্ডেড। বাঙালির মুক্তির সোপান ছিল এই ছয় দফা।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ছয় দফা মুক্তির সনদ নয় বটে, কিন্ত এটি ন্যায্য দাবি ছিল। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা মূলত আলোচিত হয়েছিল ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে। আর এটিকে যারা সিআইএ এর দলিল বলে থাকেন সেটি ভুল। মুক্তিযুদ্ধের অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ছিল ছয় দফা।

এমএইচ/বিএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।