বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
বিএনপিকে সুবিধা দিতে ছলচাতুরির পথ বেছে নিচ্ছে ইসি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নানান সময়ে নানানভাবে ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ও ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন সংগঠনটির মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপির সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের মনোনয়ন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এ ধরনের ব্যক্তিরা যদি ভবিষ্যতে সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হন, তাহলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
‘কারণ সংবিধান, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন নথিপত্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে। যারা বাংলাদেশের নাগরিক নন বা যাদের রাষ্ট্রের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য নেই, তারা এসব তথ্য অন্য রাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে না- এ নিশ্চয়তা কোথায়?’
হাসিব আল ইসলাম আরও বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের ঋণখেলাপি প্রার্থীদের ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের শর্তে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে। এতে প্রশ্ন উঠে, তারা সেই ঋণ পরিশোধের অর্থ কোথা থেকে আনবে? দেশের সম্পদ লুট করে কি সেই ঋণ পরিশোধ করা হবে?
তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং দেশে পুনরায় কোনো ফ্যাসিবাদ যেন ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা জরুরি। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে এসব প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা অপরিহার্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে নির্বাচন কমিশন সেই নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এসময় সংগঠনটির মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা বলেন, ঋণখেলাপি প্রার্থীদের মনোনয়ন টেকনিক্যাল অজুহাত দেখিয়ে বৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে। এমনকি আদালতে মামলা চলমান থাকার পরও অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বহাল রাখা হয়েছে। এটি শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের পথকে বৈধতা দেওয়ার শামিল।
এফএআর/এমকেআর/জেআইএম