ঢাবিতে চাঁদাবাজির তথ্য প্রকাশ করায় দোকানে আগুন দেওয়ার অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে চাঁদার বিনিময়ে দোকান বসানোর অভিযোগ ওঠে সম্প্রতি। ওই অভিযোগ প্রকাশের পর একটি খাবারের দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতার নাম উঠে এসেছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাইয়ান আব্দুল্লাহ ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বর্তমান ছাত্রশক্তি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল গণি সগীর। অভিযুক্ত নুরুল গণি সগীর সর্বশেষ ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে কবি জসীমউদ্দীন হল সংসদের বাগছাস মনোনীত ভিপি প্রার্থী ছিলেন।
গতকাল শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এক মাস আগে লাইব্রেরির সামনে একটি মোমোর দোকান ধরার সময় রাইয়ান আব্দুল্লাহ নিজেকে দোকানের মালিক দাবি করেন এবং বিক্রেতা নুরুন নবীকে কর্মচারী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে প্রক্টরিয়াল টিমের জিজ্ঞাসাবাদে নুরুন নবী স্বীকার করেন যে, অর্থের বিনিময়ে দোকানটি বসানো হয় এবং সব ধরনের শেল্টার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।’
সর্ব মিত্র চাকমা আরও দাবি করেন, দোকান ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে নুরুল গণি সগীর তাকে ফোন করে দোকানটি তার বলে দাবি করেন এবং ছেড়ে দিতে বলেন। পোস্টে দোকান মালিকের একটি লিখিত জবানবন্দিও সংযুক্ত করা হয়।
জবানবন্দিতে নুরুন নবী উল্লেখ করেন, তিনি গত বছরের নভেম্বর মাসে রাইয়ান আব্দুল্লাহ ও নুরুল গণি সগীরের মাধ্যমে লাইব্রেরির সামনে দোকান বসান এবং সেদিনই প্রক্টরিয়াল টিম দোকানটি জব্দ করে।
অভিযোগের বিষয়ে নুরুল গণি সগীর জানান, তিনি ক্যাম্পাসে কোথাও কাউকে দিয়ে দোকান বা ফুড কার্ট চালান না। দোকানদারকে তিনি চেনেন না এবং জবানবন্দিতে তার নাম কীভাবে এসেছে, তা তিনি জানেন না।
আরও পড়ুন
ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ
ঢাবির আইআরে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন চেয়ার’স অ্যাওয়ার্ড
রাইয়ান আব্দুল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি ওই দোকানে বিনিয়োগ করেছিলেন এবং এটি অংশীদারি ব্যবসা ছিল। চাঁদাবাজির অভিযোগকে তিনি মিথ্যা দাবি করেন এবং বলেন, কেউ যদি এক পয়সার চাঁদাবাজির প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে যে শাস্তি দেওয়া হবে, তিনি তা মাথা পেতে নেবেন।
এদিকে, চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রকাশের পর গতকাল শনিবার রাতে ঢাবির টিএসসি এলাকায় একটি খাবারের দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাবি শাখার বিজয় একাত্তর হলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদ হাসান সাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দোকানটিতে আগুন দিতে দেখা যায় তাকে।
দোকানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নুরুন নবীর করা চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ার পরপরই ওই ভিডিওটি সামনে আসে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সর্ব মিত্র চাকমা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি এবং তার প্রতিবাদ করায় দোকানে আগুন দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
অভিযুক্ত সাইদ হাসান সাদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাঁদাবাজির কোনো প্রমাণ নেই। তবে তিনি প্রশাসনিক কাজে আইনবিরুদ্ধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রক্টরিয়াল টিম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফএআর/কেএসআর