শাবিপ্রবির আবাসিক হল

ট্যাপ খুললেই বের হয় লালচে পানি, অতিরিক্ত আয়রনে উঠে যাচ্ছে মাথার চুল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক শাবিপ্রবি
প্রকাশিত: ০২:৫৬ পিএম, ০৬ মে ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে পানির সমস্যায় ভুগছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। পানি সরবরাহের জন্য ওয়াটার প্লান্ট স্থাপনের প্রায় তিন বছরেও বিশুদ্ধ পানির সংকট কাটেনি আবাসিক হলটিতে অবস্থানরত পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর। ফলে চুল পড়া, চুলকানি, কাপড় লালচে হওয়া, কয়েকদিন পরপর পানির ফিল্টার নষ্ট হওয়াসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শাবিপ্রবিতে ২০২৩ সালের আগস্টে প্রায় ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি আবাসিক হল এলাকায় দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে একটি শাহপরান হল ও বিজয়-২৪ (তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) হলের জন্য এবং অপরটি সৈয়দ মুজতবা আলী হলের জন্য। শাহপরান হল-সংলগ্ন প্লান্টটির পানি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১০টি স্থাপনায় সরবরাহ করা হতো। এর মধ্যে রয়েছে বিজয়-২৪ হল, বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব, চিকিৎসাকেন্দ্র, মিলনায়তন, ইউনিভার্সিটি সেন্টারসহ কয়েকটি জায়গায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুরুতে প্লান্টটি থেকে ঘণ্টায় ৩০ হাজার লিটার পানি পরিশোধন করা হতো, যা ক্যাম্পাসের প্রায় ৭০ শতাংশ বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণে সক্ষম ছিল। তবে চালুর কয়েক মাস পরে ওই স্থানের পানির স্তর নেমে যাওয়ায় প্লান্টটি থেকে পূর্বের ন্যায় পানি উত্তোলন হচ্ছে না। বর্তমানে শুধু শাহপরান হলে ও শাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের পানি এই প্লান্টটি থেকে সরবরাহ করা হয়।

এদিকে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ না হওয়ায় নানাবিধ সমস্যায় ভুগছে বিজয়-২৪ হলের শিক্ষার্থীরা। হলটিতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ট্যাপ থেকে মাঝেমধ্যে লালচে ময়লা পানি আসে। অনেক সময় গোসলে গিয়ে আটকা পড়তে হয়, পরিষ্কার পানির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পরিষ্কার পানি পেতে এক ব্লক থেকে অন্য ব্লকে ছুটতে হয় শিক্ষার্থীদের। পানিতে থাকা অতিরিক্ত আয়রণের ফলে চুল পড়া, চুলকানিসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছে হচ্ছে তাদের।

আবাসিক হলের শিক্ষার্থী হিমেল হান্নান বলেন, মাঝেমধ্যে হলের ট্যাপগুলো দিয়ে অতিরিক্ত আয়রণযুক্ত পানি আসে, যা গোসল বা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের জন্য একদমই উপযোগী নয়। বিশেষ করে জুম্মার দিন নামাজের সময় যখন সবাই গোসলে যান, তখন পানির এই জটিলতা বেশি দেখা দেয়।

বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. খালিদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, হলের পানির সমস্যা সমাধানে আমি ব্যক্তিগতভাবে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ স্যারের সঙ্গে দেখা করেছি, তারা বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক সাড়া দেন এবং একটি আবেদন করতে বলেন। আমরা ইতোমধ্যে হিসাব দপ্তরের আওতায় আমাদের হলের জন্য আলাদা একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য আবেদন করেছি। বর্তমানে এটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যদি এটি বাস্তবায়ন হয় তাহলে পানির সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

শাবিপ্রবির ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর। দপ্তরটির প্রধান প্রকৌশলী জয়নাল ইসলাম চৌধুরীকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা কেটে দেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, বিজয়-২৪ হলের পক্ষ থেকে একটি আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে যাতে গভীর নলকূপ স্থাপন করা যায়, আমরা সেটার চিন্তা করছি। আপাতত সৈয়দ মুজতবা আলী হলের ওয়াটার প্লান্ট থেকে শাহপরাণ হলের ওয়াটার প্লান্টে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। সরবরাহকৃত এই পানি বিজয়-২৪ হলে দেওয়া হবে।

এসএইচ জাহিদ/কেএইচকে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।