পচা মাংসের তথ্য ফাঁস সন্দেহে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার বাবুর্চিকে মারধর
ডাকসু ভবনের ‘কলা ভবন ক্যাফেটেরিয়া’য় পচা মাংস রান্নার তথ্য সাংবাদিক ও প্রশাসনের কাছে ফাঁস করার অভিযোগে এক বাবুর্চিকে বাসা থেকে ডেকে এনে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামের অ্যাটেনডেন্ট কাম জেনারেল সহযোগী মো. ইমরান হোসেন ওরফে করিম এবং টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার সহকারী বাবুর্চি মো. নাজমুল করিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
শনিবার (২ মে) সন্ধ্যায় টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার রান্নাঘর ও গেস্ট হাউসের পেছনে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগী কলা ভবন ক্যাফেটেরিয়ার সহকারী বাবুর্চি রুমেন হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমাকে কল দিয়ে আসতে বলে নাজমুল ভাই, আমি তখন শিববাড়ি আমার বাসায় ছিলাম। টিএসসির যে জায়গাটাতে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না সেখানে আমাকে নিয়ে চেয়ারে বসায়। চেয়ারে বসিয়ে তারা আমাকে মারধর শুরু করে। করিম আমাকে চড়-থাপ্পড় দিতে থাকে এবং এক পর্যায়ে সে আমাকে ঘুষিও মারে। আমি অনেক চিৎকার শুরু করি। আমার চিৎকারে আশপাশে থেকে লোকজন ছুটে আসে। তখন সেখানে কাঁচের প্লেট ছিল, করিম সেই প্লেট দিয়ে আমাকে মারতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি কোনোভাবে হাত দিয়ে তা ঠেকিয়ে দিই।
ভুক্তভোগী রুমেন বলেন, তারা আমাকে কেন মারছে জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, ‘তুই পচা মাংসের খবর কেন দিয়েছিস? এটা বাইরে জানালি কেন?’ আমি অবাক হয়ে বললাম যে আমি তো এই ব্যাপারে কিছুই জানি না।
রুমেন জাগো নিউজকে বলেন, ফ্রিজে কিছু মাংস ছিল যা রান্নার জন্য আমি বের করেছিলাম। কিন্তু আমি যখন দেখলাম যে মাংসগুলো পচে গেছে, তখন আমি সেগুলো রান্না না করার সিদ্ধান্ত নিই এবং ফেলে দিই। এটাই ছিল আমার অপরাধ। কিন্তু তারা মনে করেছে যে আমি এই পচা মাংসের খবর বাইরে ছড়িয়ে দিয়েছি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি। এই রাগে আমার ওপর তারা আক্রমণ করেছে।
মারামারির ঘটনাটি পরিকল্পিত উল্লেখ করে ভুক্তভোগী বলেন, তারা আমাকে এমন জায়গায় ডেকে নিয়ে গেছে যেখানে ক্যামেরা নেই যেন তাদের ‘কুকর্মের’ কোনো প্রমাণ না থাকে। তারা আমাকে মারধর করার পর হুমকিও দিয়েছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে টিএসসি অডিটোরিয়াম অ্যাটেনডেন্ট কাম জেনারেল সহযোগী মো. ইমরান হোসেন বলেন, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে রুমেনের সঙ্গে আগে থেকেই আমাদের ঝামেলা ছিল। রুমেন এসেই অ্যাগ্রেসিভ ভাব দেখাইছে, চিল্লাপাল্লা শুরু করছে। রুমেন যদি আমার কলার না ধরতো তাহলে আমি হাত তুলতাম না।
মারামারির সময় পচা মাংসের তথ্য জানিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে গায়ে হাত তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, না! পচা মাংসের কোনো বিষয় না। রুমেন আর নাজমুল আমাদের বিপক্ষ গ্রুপের রাজনীতি করে। আমরা ওরে বারবার ডাকছি যে আমাদের গ্রুপে আসো, আমাদের সাথে থাকো কিন্তু সে শোনেনি। এ নিয়ে তিন চার বছর ধরে দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব নিয়ে আমরা ওকে কথা বলার জন্য ডাকি।
তিনি আরও বলেন, পচা মাংসের কথা একবারও হয় নাই। পচা মাংসের ইস্যুটা সে বানিয়েছে। টিএসসি অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে পচা মাংসের কথা।
রুমেনকে কল দিয়ে ঘটনাস্থলে আনা ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে ‘এটা একদম ভুয়া কথা’ বলে অস্বীকার করলেও মারামারির বিষয়টি স্বীকার করে নাজমুল করিম বলেন, দুইজনের মধ্যে মারামারি হয়েছে। যখন করিম ভাইয়ের মোবাইল নিয়ে ভেঙে ফেলছে, করিম ভাইও তিন-চারটা থাপ্পড় মারছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, এটা টিএসসির ইস্যু। আমার আওতাভুক্ত না। টিএসসি পরিচালকের আওতায় তাদের কাজ। তাই টিএসসির ডাইরেক্টরকে অভিযোগ দেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে টিএসসির (ভারপ্রাপ্ত) পরিচালক ফারজানা বাশার জাগো নিউজকে বলেন, আমি বেলা ১১টার দিকে বিষয়টা জানতে পারি। এছাড়া কিছু কথা জানলাম কয়েকজনের থেকে। তবে আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দেইনি। অভিযোগ আসলে আমি ব্যবস্থা নেব।
এফএআর/এমআরএম