বেরোবি উপাচার্যের পক্ষে-বিপক্ষে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন, হামলার অভিযোগ
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্যের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে বাধা দিয়েছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এসময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ছাত্রদলের একাংশ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজ করে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ছাত্রদলের একাংশ উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। একই সময়ে উপাচার্যের পক্ষে পৃথক সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলন চলাকালে প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান সেখানে উপস্থিত হয়ে অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যদি কোনো অনিয়ম করে থাকেন, তাহলে সবার আগে আমিই তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেব এবং শিক্ষাজীবন ছেড়ে দেব।
এসময় উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। একে অপরকে ছাত্রলীগের ট্যাগ দিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করতে দেখা যায়। পরে সাবেক এক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেওয়া পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়ামের ওপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ক্ষিপ্ত হন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। তারা তাকে ধাক্কা দেন।
সিয়াম বলেন, ‘ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত রাফি, যে আগে ছাত্রলীগের লিফলেট বিতরণ করতো, সে আমাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে গলার কলার ধরে মারতে আসে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত রাফি বলেন, হাফিজুর রহমান সিয়াম ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘যে শিক্ষার্থী সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল, আমি সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলছিলাম। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী সেখানে আসায় ঝামেলার সৃষ্টি হয়।’
আজিজুর রহমান/এসআর/এএসএম