জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাবিতে পুনরায় বসেছে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১২:৫৩ পিএম, ০৮ মে ২০২৬

২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রায় দুই বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পুনরায় শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সভাপতি ও নিয়োগ বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৬ মে দুপুর প্রায় ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে বোর্ডে প্রভাষক পদে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রভাষক (স্থায়ী) তিন পদের বিপরীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ১৩জন প্রার্থী সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করেন।

এবারের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সন্তোষজনক হয়েছে উল্লেখ করে নিয়োগ বোর্ডের প্রধান আইন ও বিচার বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি শুধু সাক্ষাৎকার দিয়েই নিয়োগ হয়ে যেত কিন্তু নতুন নীতিমালায় বেশকিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এখন ডেমো ক্লাস নেওয়া, পাওয়ার পয়েন্ট, মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনসহ প্রার্থীদের নানা রকম যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবার ১৩জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। এবারের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে প্রার্থীদের অধিক প্রস্তুতির কোন বিকল্প নেই। সবদিক থেকে সর্বাধিক যোগ্য প্রার্থীকেই বাছাই করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সকাল ৯টা থেকে সাক্ষাৎকারের তোড়জোড় শুরু হয়ে দুপুর ১২টা নাগাদ সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, প্রার্থীদের ফাইলগুলো সিলগালা করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগামী সিন্ডিকেটের আগে সেগুলো খোলার কোন সুযোগ নেই। এছাড়াও এবারের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার বলেন, ১৯৮১ সালেও একবার শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা সংস্কার হয়েছিল। এছাড়াও যুগ ও বাস্তবতার নিরিখে বিভিন্ন সময় শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তন হয়েছে।

তিনি বলেন, এবারের নতুন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা আগের তুলনায় বেটার হয়েছে। আশা করি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবেই শিক্ষক নিয়োগ হবে। তবে, এই নীতিমালা কতটা গ্রহণযোগ্য এবং কতটা স্বচ্ছ হচ্ছে সেটা আরও কিছুদিন পর বোঝা যাবে।

তবে কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী কম জিপিএ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলেও শিক্ষক নিয়োগে অংশ নিতে পারবে না। যেখানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার ছিল স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও গবেষণাকে।যা সরাসরি বৈষম্য। এরূপ নানা সমস্যা, এবারের শিক্ষক নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, এবারের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা যথেষ্ট পরিমাণে ভালো হয়েছে। প্রার্থীদের নিজ যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে, সাক্ষাৎকারে দীর্ঘ সময় লাগায় অনেকেরই কষ্ট হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘ সময় নিয়ে আমাদের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিতে হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়াটা আরও একটু ইতিবাচক করা গেলে মনে হয় ভালো হতো। তবে আমরা পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছি। আমি শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেছি। সবার মতামতের ভিত্তিতেই আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নেব বলে বিশ্বাস করি।

এর আগে, ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেট সভায় নতুন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার অনুমোদন দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদন করার পর মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও গবেষণায় স্কোরিং করা হবে। এই স্কোরিংয়ের ভিত্তিতে চাকরিপ্রার্থী বাছাই শেষে তাদের ভাইবা পরীক্ষা ও ডেমো ক্লাসে অংশ নেওয়ার কথা। উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এরপর চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি আইন ও বিচার বিভাগের ৩ টি প্রভাষক (স্থায়ী) পদের জন্য সংশোধিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন।

মো. রকিব হাসান প্রান্ত/এনএইচআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।