কুবিতে আবারো সবুজ আতঙ্ক


প্রকাশিত: ০৪:২০ এএম, ০১ আগস্ট ২০১৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারো সবুজ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এক সময়ের ছাত্রদল ক্যাডার সবুজ এখন কুবি এলাকায় ছাত্রলীগের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত।

কুবি এবং এর আশপাশের এলাকায় ত্রাস হিসেবে খ্যাত ছাত্রলীগ ক্যাডার ইলিয়াস হোসেন সবুজকে গত বছরের ২৪ এপ্রিল অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছিল র্যাব। প্রায় ৬ মাস কারাগারেও ছিলেন। সবুজ ও তার সহযোগীদের হাতে ইতোমধ্যে কুবির অনেক শিক্ষক- শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়েছেন। অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী কুবি প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও বিচার পাননি।

চলতি বছরের শুরু থেকে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে সবুজ ও তার গ্রুপের কর্মীরা। গত ২২ জুলাই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহামনকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করার দাবিতে কুবির ছাত্রলীগ সভাপতি আলিফ ও সবুজ গ্রুপের পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচিতে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।

সর্বশেষ শোকাবহ আগস্টের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করতে এসে সবুজ গ্রুপের কর্মীরা আলিফ গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রাণ গেছে তারই (সবুজ) গ্রুপের খালেদ সাইফুল্লাহ নামের এক কর্মীর।

জানা যায়, বিগত ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে সবুজ  কুবিতে ভর্তির পর কোটবাড়ি শালবন, ময়নামতি জাদুঘর, সালমানপুর এলাকায় নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে দেয়। এসব এলাকায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের প্রায়ই তার সহযোগীদের নিকট সর্বস্ব হারাতে  হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তার গ্রুপ নিয়মিত চাঁদা আদায় করতো।

বিগত ২০১১ সালের গত ২৪ জানুয়ারি পরীক্ষায় অবৈধভাবে অধিক নম্বর দিতে অস্বীকার করায় লোকপ্রশাসন বিভাগের তৎকালীন প্রথম ব্যাচের ছাত্র ও ছাত্রলীগ ক্যাডার ইলিয়াস হোসেন সবুজ একই বিভাগের শিক্ষক মশিউর রহমানের বাসায় হামলা চালায়। পরে শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় সবুজকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল।

এ ঘটনার সময় কুবির ছাত্রলীগের মাসুম গ্রুপের অনুসারী থাকলেও পরবর্তীতে তাকে মাসুম গ্রুপ থেকে বহিষ্কার করায় পরবর্তীতে নিজেই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ‘সবুজ গ্রুপ’ নামে ছাত্রলীগের নতুন একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। বিগত ২০১২ সালের ১৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সবুজ তার সহযোগীদের নিয়ে সদর দক্ষিণ থানার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের রিভারভিউ ফিলিং স্টেশনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে ওই ফিলিং স্টেশনে হামলা, ভাঙচুর ও গুলি চালায়। এতে ২ জন গুলিবিদ্ধসহ ৮ জন আহত হয়।

এ সময় ফিলিং স্টেশনের মালিক আলী মনসুর ফারুক সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সবুজ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ ফিলিং স্টেশনের মালিকরা কুমিল্লায় ধর্মঘট আহ্বান করে। পরে সবুজের অন্যতম সহযোগী সাইদুলকে গ্রেফতারের পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করে।

কুবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্ররা জানান, কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আবারো বেপেরোয়া হয়ে উঠে সবুজ। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক টেন্ডারবাজি, জমি দখল ও কুবির আবাসিক হল নিয়ন্ত্রণে সবুজ গ্রুপ কুবি ও এর আশপাশের এলাকায় অনেকটা ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করে আসলেও তার বিরুদ্ধে কুবি প্রশাসন কিংবা স্থানীয়দের কেউই আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার সাহস পাচ্ছে না।

গত ২২ জুলাই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরেয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করার দাবিতে কুবির শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হাসান আলিফ  ও সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই-এলাহী গ্রুপ এবং সবুজের নেতৃত্বাধীন সহ-সভাপতি রুপম দেবনাথ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদের গ্রুপ পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করে। ওই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির পর থেকেই উভয় গ্রুপ ক্যাম্পাসে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। উভয় গ্রুপ পৃথক আবাসিক হলে শক্তি বৃদ্ধি করে।

কুবির বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্ররা জানান, রোববার মধ্য রাতে কুবির বঙ্গবন্ধু হলের সামনে স্থাপিত প্রতিকৃতিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করতে তারা সমবেত হন। এ সময় শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত হল থেকে সবুজ ও তার সহযোগীরা সেখানে পৌঁছে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় গুলিবিব্ধ হন অন্তত ৫ জন। এদের মধ্যে ভোরে ঢামেকে মারা যান সবুজ গ্রুপের কর্মী খালেদ সাইফুল্লাহ।   

এসএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।