ঝুঁকিতে ঢাবির ৪ হল


প্রকাশিত: ০৯:১১ এএম, ০৩ এপ্রিল ২০১৫

বেহাল দশা বিরাজ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারটি হলের। পরিত্যক্ত ভবন, সংস্কারের অভাব, প্রশাসনের অনীহাসহ নানা কারণে এই সব হলে এখন তৈরি হয়েছে মৃত্যুকুপে। এ অবস্থায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন চার হলের প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ হলগুলোর মধ্যে রয়েছে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল (আল্লামা ইকবাল হল), হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল, মাস্টারদা সূর্যসেন হল এবং শহীদুল্লাহ হল। এ সব হলে খুব শিগগরিই সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাবে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার কারণে এসব হলের সংস্কার হচ্ছে না।

১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে প্রশাসনের এমনই উদাসীনতায় জগন্নাথ হলে ঘটে যায় ভয়াবহ এক দুর্ঘটনা। ওইদিন প্রাণ হারান হলের ছাত্র ও কর্মচারীসহ ৩৯জন। তবুও টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের। প্রতিবছর ঘটা করে কালো কাপড় বুকে সেঁটে দিবসটি স্মরণ করা হলেও এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়ে গেছে ঢাবির বেশ কয়েকটি হল। শিক্ষার্থীদের মতে এগুলো খুব তাড়াতাড়ি সংস্কার করা না হলে রচিত হবে আরও কয়েকটি অক্টোবর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালের মে মাসে ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি হলে সংস্কারের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কিছুদিন আগে বরাদ্দের অর্ধেক অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে আসে। তবে নানা জটিলতায় এখনো কাজ শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

চারটি হলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের বর্ধিত ভবন। সরেজমিনে দেখা গেছে, হলের বর্ধিত ভবনের বেশকিছু জায়গায় রডের খুটি দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া ভবনের বেশির ভাগ কক্ষে পলেস্তারা খসে রড দেখা যাচ্ছে। আবার বিভিন্ন জায়গায় ফাটলও দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির সময় এসব ফাটল দিয়ে পানি পড়ে।

হলের ১০০৩ নম্বর রুমের ছাত্র ইমরান হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা সব সময় শঙ্কায় থাকি যে আজকের দিনটি কেটে গেলেও আগামীকাল আমি বাঁচতে পারবো কিনা। কবে আবার ছাদ ভেঙ্গে পরকালে পাড়ি জমাতে হয়। তার অভিযোগ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এসব সংস্কার হচ্ছে না’।  

এছাড়া ১৯৬৭ সালে নির্মিত মাস্টারদা সূর্যসেন হলের অবস্থাও একই। ১ এপ্রিল বুধবার সকাল পৌনে ১০টায় বৃষ্টিতে এই হলের ছাদের কার্নিশ ভেঙ্গে আহত হন দুইজন। আর অল্পের জন্য বেঁচে যায় প্রায় আরও ১৫-২০ জন আবাসিক শিক্ষার্থী। এছাড়া হলের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং পলেস্তারা খসে পড়ছে।

হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলেরও বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ব্লকের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। কয়েকদিন আগে চার তলার দক্ষিণ ব্লকে পলেস্তারার বিশাল একটি অংশ খসে পড়ে। ২০১৩ সালের ৮ মে দুপুরে হলের টিভি রুমের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে।

এছাড়া, ১৯২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় নির্মিত শহীদুল্লাহ হলের অবস্থাও করুণ। এই হলের এক্স-১ ও এক্স-২ ভবনের অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। এ হলের ফাটল কয়েক দফা সংস্কার করেও কোনো লাভ হয়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মফিজুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বাজেট পাস হওয়ার পরপরই আমরা বুয়েট কর্তৃপক্ষকে নকশা প্রণয়নের জন্য দায়িত্ব দিয়েছি। সেই নকশার নথি তারা গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবমিট করেছে। তাদের দেয়া নকশা অনুযায়ী ১৮ কোটি টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। কিন্তু আমাদের বাজেট রয়েছে মাত্র ১০ কোটি। এ অবস্থায় আমরা তাদের ১৮ কোটি থেকে কমিয়ে আনার জন্য প্রস্তাব করছিলাম কিন্তু তারা বলছে কাজ অনুযায়ী তা সম্ভব নয়। আমরা আগামী ৬ এপ্রিল এ বিষয়ে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। যেখানে ভিসি স্যার, বুয়েট, হলগুলোর প্রভোস্ট সবাই উপস্থিত থাকবেন’। তিনি বলেন, ‘আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই আমরা খুব দ্রুতই এই কাজ শুরু করবো’।

বিএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।