দু`মাসের ছুটিতে যাচ্ছেন শাবি উপাচার্য
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটের সমাধান না করেই আন্দোলনের মুখে সিন্ডিকেটের জরুরি সভা থেকে আগামী ১ মে থেকে দু`মাসের ছুটিতে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন উপাচার্য ড. মো. আমিনুল হক ভুইয়া। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় এক জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এ ঘোষণার পর দুপুর ১টায় আন্দোলনরত মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ শামসুল আলম, শিক্ষক নেতা ড. মোস্তাবুর রহমান মুস্তাব ও ড. নাজিয়া চৌধুরী উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করে আজ থেকে ছুটিতে যাওয়ার অনুরোধ করেন। শিক্ষক নেতাদের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার থেকে দুই মাসের জন্য ছুটিতে যেতে উপাচার্য সম্মত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন অধ্যাপক সৈয়দ শামসুল আলম।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এটি হল উপাচার্যের পদত্যাগের প্রাথমিক প্রক্রিয়া। ছুটি শেষে তিনি আর ক্যাম্পাসে ফিরবেন না। ফোরামের আহ্বায়ক সৈয়দ সামছুল আলম ও সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ফারুক উদ্দিন একই দাবি করেছেন। তবে উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা বলছেন এর মাধ্যমে আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে এবং উপাচার্য ছুটি শেষে দায়িত্বে ফিরে আসবেন।
এদিকে সিন্ডিকেটের সভায় উপাচার্য ১ মে থেকে দুই মাসের জন্য ছুটি চাইলে তা অনুমোদন দেয়া হয় এবং আবেদন সিন্ডিকেট থেকে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠানো হয়।
অসদাচরণ, অনিয়ম, পরিবারতন্ত্র, অযোগ্যতাসহ বিভিন্ন কারণে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শাবির ৩৫ জন শিক্ষক ৩৭ টি প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। এতে চাপে পড়ে যান শাবি উপাচার্য।
পরবর্তীতে একাডেমিক কাউন্সিলের একটি সভা আহ্বান করে ফরেস্ট্রি বিভাগের প্রধান নারায়ণ সাহার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি সংলাপ কমিটি গঠন করেন উপাচার্য। তার চাওয়া ছিল, সংলাপ কমিটি পদত্যাগকারী আন্দোলনরত শিক্ষকদের সাথে সমঝোতা করে শাবিকে স্থিতিশীল করবে। কিন্তু উপাচার্যের সমঝোতা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করে বুধবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করেন মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ শাবির আন্দোলনরত শিক্ষকরা। ওই দিনই জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকেন শাবি উপাচার্য।
উপাচার্য ছুটিতে থাকা অবস্থায় কোষাধ্যক্ষ ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে পদত্যাগ না করে ছুটিতে যাওয়ায় আন্দোলন বন্ধ হবে কিনা এ বিষয়ে কিছু জানা যায় নি।
এসএস/পিআর