জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে থাপ্পড়, বহিষ্কার ছাত্রদল নেত্রী
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগে ছাত্রদল নেত্রী সাদিয়া সুলতানা নেলীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সাদিয়া সুলতানা ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে জকসুর হল সংসদের জিএস প্রার্থী ছিলেন।
রোববার (৩ মে) উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাকে বহিষ্কারের কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ড. রইস উদ্দিন।
এর আগে, একইদিন জকসুর ভিপি (সহ-সভপতি), জিএস (সাধারণ সম্পাদক) ও এজিএস (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক) স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে দুই দফা আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে জকসুর পক্ষ থেকে দুইটি দাবি উত্থাপন করা হয়। সাদিয়া সুলতানা নেলীকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভিসি ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সাময়িক বহিষ্কার আদেশে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাময়িক বহিষ্কার দ্বারা কী বোঝাচ্ছে, ওটা আমাদের কাছে এখনো স্পষ্ট নয়। আমরা আগামীকাল প্রশাসনের সঙ্গে বসবো। আমরা অভিযুক্ত ছাত্রদল নেত্রীর স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।
বহিষ্কার আদেশের বিষয়ে জানতে ছাত্রদল নেত্রী সাদিয়া সুলতানা নেলীর সঙ্গে রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাকে যে বহিষ্কার করা হয়েছে, ওটি এখনো জানানো হয়নি। কেন বহিষ্কার করা হলো, সেটিও জানি না। মাত্র পরীক্ষা দিয়ে আসলাম তো, সো-এখন না, একটু পর কথা বলি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দীন বলেন, পূর্বেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা এ ধরনের আচরণকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবো না। আপাতত তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়কও দায় এড়াতে পারেন না, তাই তাকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, গত ২৯ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল নেত্রী সাদিয়া সুলতানা নেলী প্রকাশ্যে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ভুক্তভোগী জর্জিস আনোয়ার নাঈম কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
টিএইচকিউ/এসএনআর