জাবিতে ভবন যুদ্ধ : ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী
ভবন নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। প্রায় এক মাসেরও অধিক সময় আন্দোলনের ফলে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আন্দোলনের কারণে দীর্ঘ মেয়াদী সেশন জটে পড়তে যাচ্ছে এই ৩ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
গত ৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক অফিস আদেশের মাধ্যমে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অনুকূলে ভবনের নবনির্মিত ৩য় তলার প্রায় ২৮ হাজার বর্গফুট বরাদ্দ দেয়। বরাদ্দ পাওয়া ভবনে উঠতে গেলে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাধা প্রদান করে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান ও কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। পরে ৫ এপ্রিল থেকেই বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে থাকে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ।
এদিকে ভবনের তৃতীয় তলা স্ব স্ব বিভাগের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান ও কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ফলে ৫ এপ্রিল থেকে তারাও শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করে।
তিন বিভাগের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে গত ৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলাউদ্দিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যদের কমিটি গঠন করা হয়। ৩০ এপ্রিল তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় নবনির্মিত ভবনের ১ম, ২য় ও ৪র্থ তলায় প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুট ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগকে, প্রায় ৩২ হাজার বর্গফুট কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে এবং ৩য় তলার মোট ২৭ হাজার সাতশ আটানব্বই বর্গফুট পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তটি অফিস আদেশ হিসেবে ২ মে শনিবার প্রকাশ করা হয়।
সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্তের পর ২য় পর্যায়ে আবারো অচলাবস্থার সৃষ্টি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। সিন্ডিকেটের ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২ মে কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫ জন ও ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ১০ জন শিক্ষক পদত্যাগসহ আমরণ অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রাখে বিভাগ দুটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ও কর্মচারীবৃন্দ। অনশনে কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকসহ ১১ জন অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ওই সময় শিক্ষক সমিতি ও ডিন কমিটি সদস্য মিলে ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তিন বিভাগ ঐক্যমতে না পৌঁছা পর্যন্ত ভবনের তৃতীয় তলায় কাউকে না উঠানোর জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানাবেন এই দুই কমিটির সদস্যরা। এমন আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ভূতাত্ত্বিক বিভাগ ও কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষকরা ৬ মে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন কর্মসূচিও প্রত্যাহার করেন।
এদিকে গত ১৪ মে বৃহস্পতিবার ভোরে ভবনের তৃতীয় তলায় আসবাবপত্র নিয়ে উঠে পড়ে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ। ভবনে উঠতে গেলে তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে দুপুরের দিকে বিভাগের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা বলেন, সিন্ডিকেট আমাদের যে স্থান বরাদ্দ দিয়েছে আমরা তাতে ক্লাশ শুরু করেছি।
এদিকে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগকে ভবন থেকে বের করে দেওয়ার দাবিতে প্রশাসন ভবন অবরুদ্ধ করে কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এসময় উপাচার্য তার কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেন নি।
পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে রাতের অন্ধকারে নতুন ভবনে ওঠার প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে নতুন কর্মসূচীর ঘোষণা করেছে কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও ভূতাতত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে দর্শন বিভাগে রায়হান রাইন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসন যৌক্তিক সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ নিয়ে তা কার্যকর করতে পারিনি। যার ফলে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘমেয়াদী এ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এখানে বিভিন্ন পক্ষ ক্ষমতার অপব্যবহার করছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, বিশ্ববদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। তাই সকলের উচিত সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মেনে চলা ও এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। এতে সব জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুন্ন থাকবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাজ ভালোভাবে পরিচালনা করা যাবে।
এসএস/পিআর