শিক্ষার্থীদের অভিযোগ
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদাসীন জাবি প্রশাসন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সম্প্রতি মাদক, বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য এবং নারী শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। তবে ১২ মে ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে হলে যাওয়ার সময় রাস্তা থেকে টেনেহেঁচড়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম উদাসীনতা এবং নিরাপত্তাহীনতার চরম বহিঃপ্রকাশ বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে দোষী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা গেলেও তার পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১১টায় ঘটনা ঘটলেও ঘটনাস্থলে আসেননি উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ। প্রক্টরের উপস্থিতিতে সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইমরোজ ইলা বলেন, ‘আমরা শুধু একটি ঘটনার প্রতিবাদে নয়, বরং একটি ব্যর্থ ও উদাসীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। যে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কথা ছিল মুক্তচিন্তার অভয়ারণ্য, সেখানে বহিরাগত কর্তৃক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটে। এটি প্রশাসনের চরম ব্যর্থতার নগ্ন প্রমাণ।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গতকালকের ঘটনায় খুব আশ্চর্য হলাম একজন শিক্ষার্থীবান্ধব ভিসি কিভাবে ঘরে বসে থাকতে পারে! তার প্রমাণই দিয়েছে উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মহাসড়কে নিয়মিত যে অপরাধগুলো সংঘটিত হচ্ছে, প্রশাসনের নূন্যতম সদিচ্ছা নেই সেগুলো প্রতিরোধের।
তিনি আরও বলেন, পূর্বেও অনেক অপরাধ সংগঠিত হওয়ার পরে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে অনেক প্রতিশ্রুতি প্রশাসন দিলেও বাস্তবায়নের ঘর শূন্য রয়েছে।
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘটা মাদক, বহিরাগতের প্রভাব, নারী শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানির মতে ঘটনায় প্রশাসন কোনো ভূমিকা নেইনি। যার ধারাবাহিকতায় গতকালের ন্যাক্কারজনক ঘটনা। ওই ঘটনার পর এখন পর্যন্ত প্রশাসন থেকে কোনো বক্তব্য শোনা যায়নি। যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের উদাসীনতার প্রকাশ দিচ্ছে।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মো. রকিব হাসান প্রান্ত/এএইচ/জেআইএম