ঢাবিতে সাংবাদিক সমিতির বার্ষিক সেমিনার অনুষ্ঠিত
‘তথ্যে তারুণ্যে নিত্য সত্যে’ স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সাংবাদিক সমিতির ৩০ বছরে পর্দাপণ উপলক্ষে বার্ষিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘শতবর্ষের পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : উচ্চশিক্ষায় অর্জন ও প্রত্যাশা’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সেমিনারের উদ্বোধন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমউদ্দিন খান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন ও সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম, বাংলা বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস পর্যালোচনা করে বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় একটি জাতিসত্তার বিকাশ ঘটিয়েছে, একটি জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রকাশ ঘটিয়েছে, একটি নবীন রাষ্ট্র সৃষ্টির ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রেখেছে।
উপাচার্য তার উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, একশ বছরের সন্ধিক্ষণকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি যে সেমিনারের আয়োজন করেছে তা অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং প্রত্যাশিত। এজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে এ ধরনের আলোচনার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসকে সঠিকভাবে চর্চা করতে হবে। স্বাধীনতার ও সত্যনিষ্ঠতার মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠা করে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
উপাচার্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর, শিক্ষকদের ওপর দৃঢ় আস্থা রেখে জাতিরজনক প্রণয়ন করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দের অধ্যাদেশ। এ আদেশের দার্শনিক ভিত্তি ছিল ‘স্বাধীনতা’।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশা ছিল বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনভাবে চলবে, স্বাধীনভাবে চিন্তা করবে। এ আদেশের অপব্যবহার কিংবা অপব্যাখ্যার কোনো সুযোগ নেই, এর দায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক আত্মকর্তৃত্বপ্রবণ ক্ষমতাপ্রয়াসীদের। তারাই ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করেন, এতে দেশের কোনো উপকার হয় না, মানুষেরও উপকার হয় না।
উপাচার্য জোরালোভাবে বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩-এর আদেশের আদর্শগত ভিত্তি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও পরিচালিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যৎ রচনা করে এগিয়ে নেবে দেশকে, নের্তৃত্ব দেবে সমাজ ও রাষ্ট্রকে। উপাচার্য নবীণ সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সত্য বলা কঠিন তবে সত্য প্রকাশের সাহসিকতার যে শিক্ষা তোমরা অর্জন করছ তা নিয়ে ভ্রান্তি সৃষ্টি নয়, সত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাসুম বিল্লাহর সভাপতিত্বে ও সমিতির সাধারণ সম্পাদক সানাউল হক সানীর সঞ্চালনায় সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ক্যাম্পাস সাংবাদিকবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সমিতির বার্ষিক প্রকাশনা ‘প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর’ শীর্ষক সংকলন প্রকাশ করা হয়।
এমএইচ/এসকেডি/বিএ/পিআর