ঢাবি’র গণিত বিভাগের ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য


প্রকাশিত: ০৭:১২ এএম, ০৪ জুন ২০১৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের পর এবার গণিত বিভাগে রেকর্ড সংখ্যক ফল বির্পযয়ের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়া গণিত বিভাগের ৯৩তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় সব কোর্স মিলিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীর মধ্যে উর্ত্তীণ হয়েছেন ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর অকৃতকার্য হয়েছে ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী।

আবার এক কোর্সেই ২০০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণের খাতায় নাম উঠাতে ব্যর্থ হয়েছে ১৬৫ জন শিক্ষার্থী।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, গণিত বিভাগ শতকরা ৫৭ ভাগ পাশের কথা জানালেও, শিক্ষার্থীরা বলছেন অন্য কথা। তাদের দাবি অকৃতকার্যের সংখ্যা শতকরা ৬০ ভাগেরও বেশি। তারা আরও জানিয়েছেন ডিপার্টমেন্ট ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছুটা কৌশল অবলম্বন করে প্রকৃত তথ্য গোপন করা হয়েছে।

কিন্তু কেন এমন ফলাফল বিপর্যয়? সূত্র জানায়, ৯৩তম ব্যাচ (১ম বর্ষ) এর ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয় ২০১৪ সালের ১৮ অক্টোবর। প্রথম দুইটি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র তুলনামূলকভাবে বেশ কঠিন হওয়াতে অনেক পরীক্ষার্থী পরবর্তী পরীক্ষাগুলো দেয়ার মানসিকতা হারিয়ে ফেলেন।

বিশেষ করে গণিত বিভাগের শিক্ষক সোহেল রানা স্যার এর ৪ ক্রেডিটের কোর্সে প্রায় ২০০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র ৩৫ জনের মত উর্ত্তীণ হয়েছে। পরবর্তীতে ওই স্যার এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মোট প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও পাস করেছে মাত্র ৭৭ জন।

এই বছরে পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী ৩.৫ জিপিএ অর্জন করতে পেরেছে। যা গত বছরগুলোর তুলনায় কয়েক গুণ কম।

ঢাবির বেশ কিছু ডিপার্টমেন্টে সেমিষ্টার পদ্ধতি চালু রয়েছে। কিন্তু গণিত বিভাগে এমন পদ্ধতি চালু না থাকায় এই শতাধিক শিক্ষার্থীকে পুনরায় ১ম বর্ষে অধ্যয়ন করতে হবে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতার খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের। দেশের বাছাইকৃত মেধাবীদের মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ শিক্ষার্থী যে বিভাগ থেকে প্রথম বর্ষেই অকৃতকার্য হয়,  তখন বুঝতে বাকি থাকেনা যে এই ফলাফলের জন্য শুধুমাত্র শিক্ষার্থীরাই দায়ী থাকতে পারেনা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, যাদের দায়িত্বহীনতার কারণে এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর জীবন থেকে একটি বছর নষ্ট হলো, তাদেরকে অবশ্যই জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করা উচিত।

প্রসঙ্গত, এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসা অনুষদভুক্ত ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ (১৯তম ব্যাচ) ৪র্থ সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় চরম ফল বিপর্যয় হয়। সেখানে পরীক্ষায় মোট ১২৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছিলেন ৫১ জন। ওই সেমিস্টারে মোট কোর্স ছিলো ৫টি। এর মধ্যে ১টি কোর্সেই ফেল করেছেন ৫০ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া সবগুলো কোর্সে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ জন। গত ১৮ মে প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. অমূল্য চন্দ্র মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, ‘ফল বিপর্যয়ের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। গণিত বিভাগের এমন ফল বিপর্যয়ের পিছনে ছাত্ররা বলে শিক্ষকদের দোষ এবং শিক্ষকরা বলবেন ছাত্রের দোষ। তবে এর পিছনে আরো কিছু কারণ রয়েছে। যেগুলো সরাসরি ছাড়া আমি আপনাকে মোবাইলে বলতে চাইনা।’

তবে তিনি এই ফল বিপর্যয়ের পিছনে শিক্ষার্থীদেরই বেশী দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘যে ছাত্র সারা বছর পড়ালেখা না করে রাস্তায় রাস্তায় স্লোগান দিবে, গার্ল ফ্রেন্ড এবং বয় ফ্রেন্ড নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াবে, পড়ালেখা করবে না সেতো ফেল করবে এটাই স্বাভাবিক। এছাড়া ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা নিজেদের রি-অ্যাড দিয়ে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার প্রস্তুতি নেয়। বিভাগের পড়ালেখা করে না। তাই এ ধরনের ফল বিপর্যয়।’

এমএইচ/এআরএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।