জাবি ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা
প্রক্টরিয়াল বডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে কার্যালয়ে তালা শিক্ষার্থীদের
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীর ওপর ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রক্টরিয়াল বডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে তারা প্রক্টর অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে রোববার (১৭ মে) থেকে প্রশাসনিক ভবন অবরোধের ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।
এর আগে শুক্রবার রাতভর উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। রাত ২টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চলে। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত ১৩ মে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা না হওয়ায় তারা প্রক্টরিয়াল বডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছেন।
এসময় আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছে এবং ভুল ছবি প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। তাদের দাবি, বর্তমান প্রক্টরের দায়িত্বকালে একাধিক গুরুতর ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের পর শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিসের তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে দেন। তারা ঘোষণা দেন, প্রক্টরের পদত্যাগ, অভিযুক্তের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না।
অবস্থান কর্মসূচির একপর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের বাকবিতণ্ডা হয়। এসময় এক শিক্ষার্থী উপাচার্যকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে আখ্যা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে ও কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে হলে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, ‘ভুল ছবি প্রকাশের অভিযোগ সম্পর্কেও তদন্ত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।’
মো. রকিব হাসান প্রান্ত/এমএন/এমএস