জাবিতে মেয়াদোত্তীর্ণ সিন্ডিকেট দিয়েই বার্ষিক সভা
অধিকাংশ মেয়াদোত্তীর্ণ সিন্ডিকেট সদস্য নিয়ে শনিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সিন্ডিকেটের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১৯৭৩ সালে প্রণীত বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ৯৩ জন সিনেট সদস্যের মধ্যে অধিকাংশ সদস্যদেরই মেয়াদ দুই থেকে ১৪ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে।
আবার মেয়াদোত্তীর্ণ সিনেট সদস্যদের মধ্য থেকেই সিন্ডিকেট এবং অর্থ কমিটিতে প্রতিনিধি নির্বাচন ও মনোনয়ন দেওয়া হবে অনুষ্ঠিতব্য সিনেট অধিবেশনে। আর এই মেয়াদউত্তীর্ণ সিনেট নিয়েই প্রশাসনিক বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে এবং বর্তমান উপাচার্যসহ প্রাক্তন দুই উপাচার্য এ মেয়াদোত্তীর্ণ সিন্ডিকেটের ভোটেই নির্বাচিত হয়েছেন বলে সূত্র জানায়।
মোট ৯৩ জন সিনেটরদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক পাস করাদের মধ্য থেকে (রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট) নির্বাচিত ২৫ জন, জাবি শিক্ষকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি ৩৩ জন, শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচিত পাঁচজন, সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে সরকার মনোনীত পাঁচজন এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সরকার মনোনীত আরো ২৫ জন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, সিন্ডিকেটের এসব সদস্যদের মধ্যে প্রাক্তন স্নাতকদের মধ্য থেকে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধির ২৫টি পদের মেয়াদ শেষ হয়েছে ১৪ বছর আগে। ৩৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৩ সালের ২৫ জুন। এই পদগুলোর মধ্যে ২৩ বছর ধরে জাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন বন্ধ থাকায় সিনেটে কোনো ছাত্র প্রতিনিধি নেই।
এদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ সদস্যদের মধ্যে থেকে সিন্ডিকেট এবং অর্থ কমিটিতে প্রতিনিধি নির্বাচন ও মনোনয়নের প্রক্রিয়া প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষকদের একাংশ। বুধবার শিক্ষকরা এ স্মারকলিপি দেন।
এ সময় অধ্যাপক নইম সুলতান, অধ্যাপক মোহা. মুজিবুর রহমান, অধ্যাপক এটিএম আতিকুর রহমান, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। দাবিগুলো হচ্ছে শনিবার সিনেটের আলোচ্যসূচি থেকে সিন্ডিকেট ও অর্থ কমিটিতে প্রতিনিধি মনোনয়ন এবং নির্বাচন সংক্রান্ত এজেন্ডা প্রত্যাহার; অবিলম্বে সিনেটের স্থগিতকৃত ৩৩ জন প্রতিনিধির নির্বাচন সম্পন্ন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ অন্যান্য পদেও অবিলম্বে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
স্মারকলিপিতে উপাচার্যকে উল্লেখ করে বলা হয়, প্রায় ছয় মাস আগে সিনেটের ৩৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন। ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ৩৩ জন সদস্য হালনাগাদ হতেন। এ ছাড়া প্রায় দুই বছর ধরে সিন্ডিকেটে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক সদস্য পদ দুটি শূন্য রয়েছে। ডিনদেরও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। অথচ অতি সহজে এসব পদে যেকোনো সময়ে নির্বাচন হতে পারে। মেয়াদোত্তীর্ণ এসব পদে নির্বাচনের ব্যবস্থা না করে মেয়াদোত্তীর্ণ সিনেট প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সিন্ডিকেটের গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিনিধি মনোনয়ন প্রক্রিয়া আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা এ প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা এবং প্রত্যাহারের দাবি জানাই।
ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এটিএম আতিকুর রহমান বলেন, এ উদ্যোগটা কোনোভাবেই শুভ নয়। প্রাতিষ্ঠানিক গণতান্ত্রিক চর্চার ঐতিহ্যকে ধ্বংস করবে। এছাড়া এটা অনেক ধরনের সংকট তৈরিসহ অনেকেকে বঞ্চিত করছে। এটা একটা কলঙ্কজনক বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যাবলি ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর অধীনস্থ করতেই এই হীন উদ্যোগ। তিনি আরো বলেন, উপাচার্য নীতিগতভাবে দাবির প্রতি সমর্থন দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে অস্থিরতার কারণে আমরা সিনেটের নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করেও নির্বাচন দিতে পারিনি।’
বিএ/পিআর