শিক্ষার্থীর অসদাচারণ সত্ত্বেও ভিলেন রাবি উপ-উপাচার্যই!

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাবি
প্রকাশিত: ০১:৩৬ পিএম, ০১ জুন ২০১৮

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আম খাওয়া নিয়ে পুলিশে দেয়ার ঘটনায় উপ-উপাচার্য শিক্ষার্থীকে তুচ্ছ কারণে পুলিশে দিয়েছেন বলে অভিহিত করছে শিক্ষার্থীরা। তবে একটি মানবিক গল্পের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে আসল ঘটনাটি। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচারণের জন্যই পুলিশ ওই শিক্ষার্থীকে আটক করে নিয়ে গেলেও উপ-উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ভিলেন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৫টার ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের সামনের বাগান থেকে আম পেড়ে বস্তাবন্দি করছিলেন পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী আনওয়ারুল ইসলাম আনু ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী পলাশ। এমন সময় উপস্থিত হন পরিবহন দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. আলী হায়ার। বস্তাবন্দি আম দেখে তৎক্ষণাৎ প্রক্টর ও উপ-উপাচার্যকে ফোন করেন তিনি।

বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা। অধ্যাপক সাহার সঙ্গে শিক্ষার্থী আনওয়ারুল ইসলামের অসংলগ্ন কথাবার্তা ও আচরণের কারণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়া মতিহার থানা পুলিশ তাকে নিয়ে যায়। তবে আম পাড়ার কারণে তাকে পুলিশে দেয়া হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য ড. আনন্দ কুমার সাহা বলছেন, অফিস থেকে বের হয়ে সাহেব বাজারের দিকে যাচ্ছিলাম এরই মধ্যে আমি পরিবহন প্রশাসকের ফোন পাই। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখি দু’জন শিক্ষার্থী। তার কাছে জানতে চাই তুমি কি আমাদের স্টুডেন্ট। সে পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের পরিচয় দেয়। তখন বস্তাবন্দি করে আম পাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়ে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করতে শুরু করে।

তিনি আরও বলেন, এক পর্যায়ে প্রশাসন ও আমাকে নিয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহার শুরু করে দেয়। তখন বুঝতে পারি আনুর মানসিক অবস্থা খারাপ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশকে যেকোনো নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করাতে বলি। আনুর অসংলগ্ন কথাবার্তার কারণেই আনুকেই পুলিশ নিয়ে যায়। অন্য শিক্ষার্থীকে পুলিশ নেয়নি।

এদিকে উপ-উপাচার্য বা কোনো শিক্ষকের সঙ্গে নয় বন্ধুমহলেও গত দুই থেকে তিনমাস যাবৎ মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে অভিযোগ ওই শিক্ষার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনুর বিরুদ্ধে। তার মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও ছাত্রসূলভ আচরণ না করার বিষয়ে তার সংগঠন শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী থেকে এরই মধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক রঞ্জু হাসান বলেন, গত দু'তিন মাস ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন আনু ওরফে আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে আনু মোহাম্মদ। সম্প্রতি মাদক গ্রহণ করে এমন কিছু শিক্ষার্থীর সঙ্গে ওঠাবসা করছে সে। নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করায় গত দুই সপ্তাহ ধরে তার সঙ্গে কথা বলতেই চটে যাচ্ছিল আনু।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে একটি মানবিক গল্পের উত্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি উপ-উপাচার্য অধ্যপক ড. আনন্দ কুমার সাহার। তিনি বলেন, আনুর অর্থনৈতিক সমস্যা থাকতে পারে। তবে আনুর মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ও মাদকসেবনের বিষয়টি আড়াল করতেই একটি পক্ষ মানবিক গল্প সাজিয়েছে। শিক্ষার্থীদের মনে যার বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ভুল বুঝেছে শিক্ষার্থীরা।

যদিও কিছুটা সত্যতা মিলেছে আনুর কথায়। আম পাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আনু স্বীকার করে তিনি বলেন, তবে আম খেয়ে ক্ষুদা নিবারণ করতে হবে এমনটি নয় দুপুরে দুই বন্ধু আড্ডা দিতে দিতে আম পাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিই। এরপর পরিবহন দফতরের প্রশাসক বাধা দিলে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে উপ-উপচার্য গেলে তার সঙ্গেও বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ আমাকে নিয়ে যায়।

তবে আনওয়ারুল ইসলাম আনু দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আম খাওয়ার অধিকার সবার আছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য তিনিও শিক্ষক। ভিসি হন, প্রো-ভিসি হন, তাদের চামচা হন এটা আমার কোনো বিষয় নয়। আমি সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে তার কথার প্রতিরোধ করেছি।

এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।