শিক্ষার্থীকে মারতে মারতে টি-শার্ট ছিঁড়ে ফেলল ছাত্রলীগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৮:৫৭ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র নেতাদের সামনেই সাধারণ এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

মারধরের শিকার জাহিদুল ইসলাম ইংরেজি বিভাগের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় মূল ফটক সংলগ্ন স্থানে তাকে মারধর করা হয়। মারধরের বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হয়েছে বলে জানান নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হোটেলে খেতে গিয়ে চেয়ারে বসা নিয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে হাতাহাতি হয় অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের কর্মী মেহেদী হাসান অভির।

দুপুরে তাদের উভয়কে ক্যাম্পাস সংলগ্ন খালেকের চা-দোকানে বিষয়টির মীমাংসার জন্য ডাকেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদসহ সিনিয়র নেতাকর্মীরা।

এ সময় সভাপতি-সম্পাদকের সামনেই জাহিদুল ইসলামকে লাঠি, রড ও চেয়ার দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আলম দীপ্ত, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-মানব সম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক মো. এনায়েত উল্লাহ, উপ-প্রচার সম্পাদক আহমেদ আলী বুখারী, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক মুনতাসির আহমেদ হৃদয়, উপ-দফতর সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম মিঠুন, সহ-সম্পাদক কাজল হোসেন ও ছাত্রলীগ কর্মী সিফাতসহ আরও কয়েকজন। এ সময় জাহিদুলের সঙ্গে থাকা সহপাঠীরাও আহত হন।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা আহত জাহিদুল ইসলামের কথা শুনতে চাইলে তাকে কথা বলতে না দিয়ে সরিয়ে নিয়ে যান শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ।

পরে মোবাইলে বিষয়টি জানতে চাইলে জাহিদুল ইসলাম বলেন, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মারধরের পর আমাকে নিয়ে বসেছিলেন। তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে আমাকে কথা না বলার জন্য বলেছেন। কারণ পরবর্তীতে আমার কিছু হলে কে দেখবে? সামনে আমার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। আমি কিছুই বলতে চাই না।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কর্মী মেহেদী হাসান অভি বলেন, আমি আমার বান্ধবীর সঙ্গে হোটেলে বসেছিলাম। সেখানে জাহিদুল ইসলাম আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং আমাকে মারধর করেছেন।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ছাত্রলীগের একটি ছেলের গায়ে হাত দেয়ার ঘটনা কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তবে বিষয়টি মীমাংসা করতে আমরা বসেছিলাম।

মীমাংসা করতে বসে সিনিয়র নেতাদের সামনে কেন একজন শিক্ষার্থীকে এভাবে মারধর করা হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছেলেরা ক্ষেপে গিয়েছিল। তাদের আমরা শান্ত করতে পারিনি।

এর আগে ৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় মার্কেটিং বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. জাহিদুল ইসলামকে মারধর করে শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। ওই ঘটনার বিচার হয়নি এখনও।

এছাড়া ছাত্রলীগের এসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এর আগে একাধিকবার দলীয় নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার দৃশ্যমান কোনো বিচার করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিচার না হওয়ায় এসব ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, আজকের ঘটনা নিয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।

আগের ঘটনাগুলোর বিচার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, আগামীকাল আগের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে বিষয়টির সমাধান করা হবে।

এএম/এমএস

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]

আপনার মতামত লিখুন :