আবরার হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাবি
প্রকাশিত: ০৪:১৮ পিএম, ০৮ অক্টোবর ২০১৯

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে (২১) পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদ ও খুনিদের বিচার চেয়ে বিক্ষোভ ও ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যলয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থগারের সামনে মানববন্ধনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা।

কর্মসূচি শেষে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করাসহ ৫ দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হচ্ছে- ১) আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ২) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সব দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। ৩) দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিল করতে হবে এবং ৪) প্রশাসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

RU-1

অবরোধের আগে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এরপর তারা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি হয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের।

তারা বলেন, সন্ত্রাসীরা শুধু আবরারকেই হত্যা করেনি, তারা সব শিক্ষার্থীর বিকেককে হত্যা করেছে। মনে রাখতে হবে ছাত্র সমাজ জেগে ওঠলে দেশের কোথাও তাদের ঠাঁই হবে না। ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতিনিয়ত যে অত্যাচার করে যাচ্ছে কেউ ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না। মারধরের শিকার হচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার দাবি জানান।

RU-1

এ সময় শিক্ষার্থীরা, 'আবরার যখন হত্যা হল পুলিশ তখন কোথায় ছিল?' ‘আমার ভাই হত্যা কেন, প্রশাসন জবাই চাই। ভারতের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান। ফেনী নদীর পানি দেব না, দেব না। মংলা বন্দর ব্যবহার দেব না, দেব না। রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়।, সন্ত্রাসীদের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও। সন্ত্রাসীদের আস্তানা এই বাংলায় হবে না, শিক্ষা সন্ত্রাস একসাথে চলে না' ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

উল্লেখ্য, গত রোববার রাত ৩টার দিকে বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, ওই রাতেই হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

RU-1

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন তার বাবা বরকত উল্লাহ্। এ ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মৃত্যুর ৮ ঘণ্টা আগে আবরার ভারতের সঙ্গে পানি, গ্যাস ও বন্দর নিয়ে চুক্তির বিরোধিতা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। যা বেশ আলোচিত হয়।

সালমান শাকিল/এমএমজেড/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]