কুবিতে সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বে ছাত্রলীগ কর্মীদের মারামারি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক কুবি
প্রকাশিত: ০৩:৪১ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০২১

সিনিয়রের নাম ধরে ডাকাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শাখা ছাত্রলীগের কর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বাঁধন নিজের রুমে অর্থনীতি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তানজিম আহমেদ সোহাগের নাম ধরে ডাকেন। ওই রুমের বাসিন্দা সোহাগের বন্ধু ওয়াকিল বিষয়টি শুনলে বাঁধনকে ডেকে শাসান করেন। এক পর্যায়ে বাঁধনকে তারা চড় মারেন বলে জানা যায়।

এ ঘটনার পর বাঁধন তার বন্ধুদের বিষয়টি জানালে তারা রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাফীকে ডেকে নিয়ে যান। এ সময় সাদমান, মিরাজ, রবিনসহ ৮ থেকে ১০ জন শাফীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

পরে হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের একদফা মারধর করেন। এরপর শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদের রুমে ডেকে নিয়ে আধাঘণ্টা ধরে ফের তাদের মারধর করেন শাখা ও হল ছাত্রলীগের নেতারা। এতে ১৩তম ব্যাচের বেশ কয়েকজন আহত হন।

১৩তম ব্যাচের ছাত্রলীগ কর্মী হানিফ ভূঁইয়া বলেন, আমাদের বন্ধুকে মারধরের বিষয়ে জানতে তাদের রুমে যাই। তবে সেখানে আমরা কাউকে আঘাত করিনি।

jagonews24

১২তম ব্যাচের ছাত্রলীগ কর্মী শাফী হাসান বলেন, আমি হলের সিনিয়র হিসেবে জুনিয়রদের আচরণের বিষয়ে তাদের বুঝিয়ে বলি। কিন্তু তারা এসে আমাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। আমি এর বিচার চাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আলম দীপ্ত বলেন, হলের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়ে ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উচ্চবাচ্য বিনিময় হয়। আমিসহ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ বলেন, আজকের ঘটনায় জড়িত সবাই হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী। নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি থেকে হাতাহাতি হয়েছে। আমরা সিনিয়রদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করেছি। পরবর্তীতে সভাপতির সঙ্গে কথা বলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ জুলহাস মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। এটি হলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা বসে বিষয়টি সমাধান করে দেবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, আবাসিক হলের বিষয়গুলো প্রভোস্ট দেখভাল করেন। হল প্রভোস্টসহ যারা দায়িত্বে আছেন তারা প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]