ক্যাফেটেরিয়া খুলতে গড়িমসি কুবি প্রশাসনের

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক কুবি
প্রকাশিত: ০৩:২৪ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১

করোনার মহামারি স্বাভাবিক হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) খুলেছে এক মাস পেরিয়েছে। কিন্তু এখনো চালু হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়াটি।

এ নিয়ে জাগোনিউজ২৪.কম-এ ৪ নভেম্বর ‘ক্লাস শুরু হলেও বন্ধ ক্যাফেটেরিয়া, ভোগান্তিতে কুবির শিক্ষার্থীরা’ শীর্ষক একটি সংবাদও প্রকাশ হয়। এ সংবাদে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ক্যাফেটেরিয়াটি খোলার কথা জানালেও এখনো সমাধান না হওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়াটি এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কাজে নিয়োগ দেওয়া আনসার সদস্যদের অস্থায়ী আবাসস্থল হিসেবে। ক্যাফেটেরিয়ার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পড়ে আছে অযত্নে-অবহেলায়।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবারের জন্য নির্ভর করতেন একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ার ওপরই। বর্তমানে এটি বন্ধ থাকায় তাদের বাইরের হোটেলগুলো থেকে বেশি দামে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। এছাড়া বাইরের হোটেলগুলোর খাবারের মানও তেমন ভালো নয় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া শুধু খাবারের জায়গা না, এর সঙ্গে আবেগ অনুভূতি জড়িত। যেখানে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে খাবারে ভর্তুকি দেওয়া হয় সেখানে কুবিতে ন্যায্য মূল্যে খাওয়ার জন্য ক্যাফেটেরিয়াও খোলা নেই। বিষয়টি খুবই হতাশাজনক।

jagonews24

একই বিষয়ে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেরুন্নেসা সালমা বলেন, করোনার আগে আমরা ক্লাসের ফাঁকে ক্যাফেটেরিয়া থেকে নাস্তা ও দুপুরের খাবার খেতে পারতাম। কিন্তু পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর আমরা এ সুবিধাটা পাচ্ছি না। আমাদের ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে বেশি টাকা দিয়ে অস্বাস্থ্যকর খাবার কিনে খেতে হয়।

ক্যাফেটেরিয়া খোলার ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. হাবিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষার্থীদের কথা দিয়েও আমি কথা রাখতে পারলাম না। এর জন্য আমি অনুতপ্ত। শিক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা আমার মাথায় আছে। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি যেন দ্রুত ক্যাফেটেরিয়াটি খোলা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আনসার সদস্যদের থাকার নতুন বাসস্থান তৈরিতে দেরি হওয়ায় ক্যাফেটেরিয়াকে তাদের অস্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

আনসার শেডের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহিদুল হাসান জাগো নিউজেক বলেন, ঠিকাদার নিয়োগ করতে ও অনুমোদন পেতে আমাদের দেরি হয়ে গেছে। প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া আমরা কাজ করতে পারি না। অনুমোদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। আশা করি আগামী সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এমরান কবির চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের আনসার শেডটা ভেঙে গেছে, এর জন্য দেরি হয়ে গেছে। এছাড়া ভালো ঠিকাদার খুঁজছি। আমরা একটা কমিটি গঠন করবো এবং সেই কমিটির মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবো।

এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]