বিপন্নের হাত থেকে রক্ষা পাবে নারিকেলি চেলা ও তিতপুঁটি মাছ
দেশে প্রথমবারের মতো মিঠাপানির বিপন্ন প্রজাতির নারিকেলি চেলা ও তিতপুঁটি মাছের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) একদল গবেষক।
বুধবার (২২ জুন) বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ গবেষণায় সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গবেষকরা জানান, বর্তমানে আইইউসিএন-২০১৫ এর তথ্য অনুযায়ী নারিকেলি চেলা ও তিতপুঁটি মাছ বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। মাছ দুটিকে বিপন্নের হাত থেকে রক্ষায় ২০২১ সালে উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ও চিকলী নদী থেকে ৫-৭ গ্রাম ওজনের নারিকেলি চেলা মাছ এবং নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওর এবং ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে তিতপুঁটি মাছ সংগ্রহ করা হয়।

নীলফামারীর সৈয়দপুর স্বাদুপানি উপকেন্দ্রের পুকুরে নারিকেলি চেলা মাছের গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেন গবেষকরা।
গবেষণায় দেখা গেছে, একটি পরিপক্ব (১০-১৭ গ্রাম) ওজনের নারিকেলি চেলার ডিম ধারণক্ষমতা ওজনভেদে ২ হাজার ৫০০ থেকে ১১ হাজার ৫০০ পর্যন্ত হয়। দেশের স্থানীয় জলাশয়গুলোর প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা ‘নারিকেলি চেলা’ অন্য মাছের মতো বর্ষা ঋতুতে হালকা স্রোতযুক্ত জলাশয়ে প্রজনন করে।
ময়মনসিংহের স্বাদুপানি উপকেন্দ্রের পুকুরে তিতপুঁটি মাছের গবেষণা করা হয়। গত মে মাসে তিতপুঁটি মাছের কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদনে প্রাথমিক সফলতা আসে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাছটির প্রজননকাল মে থেকে আগস্ট। তবে সর্বোচ্চ প্রজননকাল জুন মাসে।
তিতপুঁটি মাছটি একসময় দেশের নদীনালা, খাল-বিল, হাওড় ও পুকুরে পাওয়া যেতো। মাছটির শরীর রুপালি রঙের এবং বক্ষপাখনার ওপরে একটি ও পুচ্ছপাখনার গোড়ায় একটি গোলাকার কালো ফোটা রয়েছে।
নারিকেলি চেলা বা কাটারি মাছটি নদী, পুকুর, বিল, হ্রদ ও খালের তলদেশে বসবাস করে। সুস্বাদু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছটি খুবই জনপ্রিয়। মাছটিতে মানবদেহের জন্য উপকারী অণুপুষ্টি উপাদান ভিটামিন ‘এ’ ও জিঙ্ক বিদ্যমান রয়েছে।
অন্যদিকে তিতপুঁটি মাছে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান এবং অন্যান্য অণুপুষ্টি পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে, যা মানবদেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন, মিনারেল ও খনিজ লবণের চাহিদা পূরণ করে। মাছটি অ্যাকুরিয়ামের বাহারি মাছ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। তিতপুঁটি সিদল ও শুঁটকি তৈরিতেও প্রচুর ব্যবহৃত হয়।

বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, দেশীয় ছোট মাছ বাঙালির সংস্কৃতি ও কৃষ্টির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই বিপন্ন প্রজাতির মাছ দুটি টিকিয়ে রাখতেই গবেষণায় হাত দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গবেষণা পরিচালনা করে এখন পর্যন্ত দেশে বিপন্ন প্রজাতির ৬৪ প্রজাতির মাছের মধ্যে নারিকেলি চেলা, তিতপুঁটিসহ মোট ৩৬ প্রজাতির মাছের জিনপুল সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব দেশীয় বিপন্ন মাছের প্রজনন কৌশল উদ্ভাবন করে তা ফিরিয়ে আনা হবে।
গবেষকরা জানান, প্রযুক্তি দুটি উদ্ভাবনের ফলে নারিকেলি চেলা ও তিতপুঁটি মাছের পোনাপ্রাপ্তি ও চাষ সহজতর হবে এবং মাছ দুটি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে। পাশাপাশি মাছের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত হবে।
এসআর/জিকেএস