জাবি ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-অবস্থান কর্মসূচি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৫১ ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদ এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৩ মে) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রক্টর অফিসের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আট দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ঘটনার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করে দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত, গ্রেফতার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা; ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; ঝুঁকিপূর্ণ ও নির্জন এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; ক্যাম্পাসজুড়ে কার্যকর সিসিটিভি মনিটরিং বাড়িয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা; নিরাপত্তা শাখার জনবল সংকট দ্রুত দূর করে বিশেষ করে রাতের সময়ে টহল ব্যবস্থা জোরদার করা; নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় জরুরি হেল্পলাইন ও দ্রুত রেসপন্স টিম চালু করা; পূর্বের হয়রানি ও নিপীড়নের ঘটনাগুলোরও সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনের অবহেলা বা দায়িত্বহীনতা থাকলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সংসদের ভিপি জিহাদ বলেন, গতকাল রাতে ঘটে যাওয়া ন্যক্কারজনক ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানাই। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সাহস এবং উপস্থিত বুদ্ধির কারণেই আজ বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। একজন শিক্ষার্থীকে রাতের অন্ধকারে ধর্ষণের চেষ্টা পুরো ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তিনি আরও বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষার স্থান নয়, এটি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা। অথচ দিনের পর দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবহেলা, বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার ফল আজ এমন ভয়াবহ ঘটনার মাধ্যমে সামনে এসেছে। দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবিলম্বে শক্তিশালী করতে হবে।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৫১ ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, কিছুদিন আগেই আমাদের এক বান্ধবীকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় হত্যা করা হয়েছে। তবে এখনো এর সুষ্ঠু বিচার ও দোষীকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়নি। কালকের ঘটনা এরই ফলপ্রসূ। অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় না আনা হলে দোষীরা এমন কাজ করে বেড়াবে। আর প্রশাসন বসে বসে দেখবে। দ্রুত এর বিচার করে দোষীকে সর্বোচ্চ শাস্তির মধ্যে আনতে হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এক ছাত্রীকে হলে যাওয়ার সময় রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত ওই যুবক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়, তিনি বহিরাগত।
মো. রকিব হাসান প্রান্ত/কেএইচকে/জেআইএম