বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ ইবির শিক্ষার্থীরা


প্রকাশিত: ০৪:৩১ এএম, ১১ এপ্রিল ২০১৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। গ্রীষ্মের গরম শুরু না হতেই বিদ্যুতের লুকোচুরিতে প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার যেমন সমস্যা হচ্ছে তেমনি বিদ্যুতের হঠাৎ যাওয়া আসায় শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ, ডেক্সটপসহ মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে।

এদিকে বিদ্যুতের আসা যাওয়ায় ক্যাম্পাস এবং মেইন গেটের ফটোস্ট্যাটের দোকানগুলো বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে অন্যদিকে দোকান মালিকেরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভাষ্য মতে, ষড়ঋতুর আমাদের দেশের প্রথম ঋতু গ্রীষ্ম দরজায় কড়া নাড়ছে। চৈত্রের শেষে মাঝে মাঝে কাল বৈশাখী ঝড় এবং প্রচণ্ড তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমই জানান দিচ্ছে উষ্ণ এ ঋতুর আগমন। তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে হাসফাঁস অবস্থা শিক্ষার্থীদের। গরম থেকে বাঁচতে বৈদ্যুতিক পাখাই একমাত্র ভরসা। কিন্তু বিদ্যুৎ-জেনারেটরের লুকোচুরিতে প্রচণ্ড গরমে নাকাল হচ্ছে আবাসিক শিক্ষার্থীরা। সকাল-বিকেল, সন্ধ্যা এমনকি মধ্য রাতেও চলে বিদ্যুতের এ লুকোচুরি খেলা।

৮ এপ্রিল ২-৩ বার বিদ্যুতের আসা যাওয়ার মধ্যে দিয়ে দিন শেষ হলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বিদ্যুৎ জেনারেটরের লুকোচুরি। রাত ১২টা পর্যন্ত ১৮-২০ বরা চলে এ খেলা। আবাসিক হলগুলোতে জেনারেটরের মাধ্যমে নিয়মানুযায়ী রাত ১২টা পর্যন্ত কিছুটা হলেও বিদ্যুৎ সংকুলানের চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ওই দিন রাাত ১২-১ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও জেনারেটর সার্ভিস বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে যেসব বিভাগের শিক্ষার্থীদের কোর্স ফাইনাল পরীক্ষা চলছে তারা লেখাপড়ার ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

পরের দিন ৯ এপ্রিল কিছুটা ভালোভাবে চললেও ১০ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৮টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যায়। আসে প্রায় রাত ৯টার দিকে। এ রকম লুকোচুরির মধ্য দিয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা। এদিকে বিদ্যুৎ গেলেই অন্ধকারে ছেঁয়ে যায় সাদ্দাম হোসেন ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল। এ দুটি হলে বেশ কয়েক দিন থেকেই জেনারেটর সার্ভিস টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। হল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ভোগান্তিতে পড়েছে এ দুই হলের প্রায় দেড় হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী।

জিয়াউর রহমান হলের রেজওয়ান, সাইফুল্লাহ, সাদ্দাম হোসেন হলের রায়হান, ইমরান ক্ষোভ প্রকাশ করে জাগো নিউজকে বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিং এর জন্য গরমে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আবার আমাদের হলের জেনারেটরও কয়েকদিন থেকে নষ্ট। লোডশেডিং হলে গরমের জন্য হলে লেখাপড়ার কোনো পরিবেশ থাকে না। হল প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাব খুব দ্রুত জেনারেটর সমস্যা সমাধানের জন্য।

শেখ হাসনা হলের ঋতু, অন্তরা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শহীদুল, শাহ-আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যুতের বারবার যাওয়া আসার কারণে লেখাপড়ার মনোযোগ নষ্ট হয়। এছাড়া মাঝ রাতে লোডশেডিং হলে গরমের জন্য রাতে ঘুমানো খুবই কষ্টসাধ্য। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সুনজরে এ সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব।

ক্যাম্পাস লাইব্রেরি ও ফটোস্ট্যাট দোকানের মালিক মনোজিৎ জাগো নিউজকে বলেন, লোডশেডিং এর কারণে কাজগুলো যথা সময়ে করতে পারছি না। এতে তারাও সমস্যায় পড়ছে আর আমদেরও ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মকবুল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, হলের জেনারেটর ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে গতকালও কাজ করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে পারবো।

এ বিষয়ে উপাচার্ড প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার জাগো নিউজকে বলেন, রোববারও চিফ ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে লোক পাঠিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। তাদেরও (পল্লী বিদ্যুৎ) লিমিটেশন আছে।

এসএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।