মেয়েদের যেভাবে ফাঁদে ফেলতেন শিক্ষক পইদুল


প্রকাশিত: ০৮:৩৯ পিএম, ২৩ মে ২০১৬
অভিযুক্ত শিক্ষক পইদুল ইসলাম

ছাত্রীর অশ্লীল ছবি ফেসবুক ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের দায়ে ঠাকুরগাঁওয়ে পইদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে সামাজিক আন্দোলন। এরইমধ্যে এলাকাবাসী সদর উপজেলা জামালপুর ভগদগাজী উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রামে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিভিন্ন স্থানে একাধিক ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন লাগিয়েছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দের নামে ব্যানারে লম্পট শিক্ষক পইদুলের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান ও তাকে স্কুল থেকে অব্যাহতিসহ সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান জানানো হয়। সেইসঙ্গে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

একাধিক ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধারণ করা নগ্ন ভিডিওচিত্র ও ছবির মাধ্যমে তৈরি পর্ণগ্রাফির মূলহোতা শিক্ষক পইদুল ইসলামের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে জামালপুর ভগদগাজী এলাকার অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর জামালপুর ইউনিয়নের ভগদগাজী উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় অনুষ্ঠিত ঘণ্টাব্যাপি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা থেকে লম্পট শিক্ষক পইদুলের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান মানববন্ধনকারীরা। এসময় বক্তারা জানান, অবিলম্বে পইদুলসহ ওই ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতার করা না হলে আগামীতে একই ব্যানারে সমাবেশসহ বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হবে।

এদিকে সরেজমিন শিক্ষক পইদুলের নিজ গ্রাম রায়পুর ইউনিয়নের মটরা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এ ঘটনায় গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে এই লম্পট শিক্ষকের আলোচনা এখন সবার মুখে মুখে। তারা লম্পট শিক্ষক পইদুলসহ তার দোসরদের সামাজিকভাবে বয়কট করার এবং তাদের দেখামাত্র গণধোলাই দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট সোপর্দ করার আহ্বান জানান।


রায়পুর ইউনিয়নের মটরা এলাকার ধনিবুলার ছেলে পইদুল ইসলাম। সে ভগদগাজী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১১ সালে বিএসসি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে। যোগদানের পর থেকেই সে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিদ্যালয়ের ছাত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে ও তাদের ব্ল্যাকমেইল করে অবাধে অনৈতিক কাজে মিলিত হতে বাধ্য করতো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গণিতের শিক্ষক পইদুল স্কুলে প্রাইভেট পড়ানোর সুবাদে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে এসব শিক্ষার্থীদের গোপন কক্ষে ডেকে নিয়ে মেলামেশা করতো এবং নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করতো। পরে নগ্ন ভিডিও দেখিয়ে দীর্ঘদিন তাদের সঙ্গে মেলামেশা করতে বাধ্য করা হতো। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ফাঁদে ফেলে তার সঙ্গে মেলামেশার চেষ্টা করলে বিষয়টি টের পায় ওই ছাত্রীর আত্মীয়-স্বজন। এর জের ধরে ভুক্তভোগী এক ছাত্রী পইদুল ইসলামের মোবাইল ফোন থেকে কিছু ছবি বের করে নেয়। পরে সেসব খারাপ ভিডিও ছবি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর বরাত দিয়ে ওই বিদ্যালয়ের পড়ুয়া সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন, পইদুল মেয়েদের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করার জন্য এলাকায় একটি প্রাইভেট সেন্টার দিয়ে অবৈধ মেলামেশার দৃশ্য গোপন ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখতো। বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া সুন্দরী ছাত্রী ছিল তার টার্গেট। এই শিক্ষক মেয়েদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে আপত্তিকর দৃশ্যের ছবি তুলে পরে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করাতো।

সম্প্রতি ওই স্কুলের এক শিক্ষকের মেয়ের সঙ্গে অবৈধ মেলামেশার ছবি সামাজিক গণমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করায় এলাকার গণমান্য ব্যক্তির মতামতে ওই ছাত্রীর সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয় তাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীদের জাপটে ধরা, শ্লীতাহানি করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এদিকে ফাঁস হওয়া ছবিতে স্কুলের একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ট অবস্থায় থাকার ছবি রয়েছে।



ভগদগাজী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি হেমাইনুদ্দিন চৌধুরী জানান, বিষয়টি জানার পরে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি কিছু বলতে পারবো না।

ভগদগাজী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত হওয়ার পরে সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযুক্ত শিক্ষক পইদুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কেটে দিয়ে বন্ধ করে রাখেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। কোনো অভিভাবক যদি এ ব্যাপারে অভিযোগ করেন তাহলে আইনানুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারপরও যেহেতু বিষয়টি স্পর্শকাতর সেহেতু অভিভাবকরা কোনো অভিযোগ না করলেও জননিরাপত্তার অভিযোগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।