ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের তনুর বাবার উকিল নোটিশ


প্রকাশিত: ১০:০৮ পিএম, ২৪ মে ২০১৬

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ময়নাতদন্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ তার বাবা ইয়ার হোসেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের এবার উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন।

নোটিশটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের অধ্যক্ষ মোহসিন-উজ-জামান চৌধুরী, ফরসেনিক বিভাগীয় প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা এবং প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শারমিন সুলতানার বরাবরে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে ওই নোটিশ কুমেক হাসপাতালে পৌঁছায় বলে রাতে মুঠোফোনে নিশ্চিত করেছেন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী তিন সদস্যের চিকিৎসক বোর্ডের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা।

জানা যায়, তনু হত্যার মামলার বাদী তার বাবা ইয়ার হোসেনের পক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলীর পাঠানো ওই নোটিশে তনুর মৃতদেহের প্রথম ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত না পাওয়া ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে কালক্ষেপণ করায় কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে রাতে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন জানান, আর কতো অপেক্ষা করবো, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্ত এখন কী দেখছি, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারদের এ অবহেলা ন্যায় বিচারের আশা যেন ক্ষীণ হয়ে আসছে।

তিনি বলেন, আমার মেয়েকে যদি হত্যাই না করা হয় তাহলে তার বিচার হবে কীভাবে? তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবেই ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সত্য আড়াল করা হচ্ছে, তাই তিনি ন্যায় বিচারের স্বার্থে আইনি লড়াই করে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ তনুর মরদেহ কুমিল্লা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে তার বাসার পাশে একটি জঙ্গলের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরদিন কুমেক হাসপাতালে ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. শারমিন সুলতানা তনুর প্রথম ময়নাতদন্ত করেন। ডিএনএ আলামত সংগ্রহের জন্য মামলার দ্বিতীয় তদন্তকারী সংস্থা ডিবির আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৩০ মার্চ কবর থেকে তনুর মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ আলামত সংগ্রহ করে। গত ৪ এপ্রিল তনুর প্রথম ময়নতদন্ত রিপোর্ট দেয়া হয়। এতে তনুকে হত্যা কিংবা ধর্ষণের আলামত ছিল না বলে জানানো হয়। এতে চরম সমালোচনার মুখে পড়ে প্রথম ময়নাতদন্ত রিপোর্ট। কিন্তু গত ৫৬ দিনেও নানা অজুহাতে দেয়া হয়নি দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট।

এরই মধ্যে গত ১৬ মে রাতে ডিএনএ রিপোর্টে তনুকে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার খবর সিআইডি থেকে গণমাধ্যম কর্মীদের জানানো হয়। সেই ডিএনএ রিপোর্টের উপর ভর করে ফরেনসিক বিভাগ দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেয়ার চেষ্টা করলেও গত ১৯ মে সিআইডি থেকে সেই ডিএনএ রিপোর্ট ফরেনসিক বিভাগকে দেয়া হবে না মর্মে সাফ জানিয়ে দেয়ায় এখন আদালতেই যেতে হচ্ছে ফরেনসিক বিভাগকে।

মো. কামাল উদ্দিন/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।