বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক থেকে সরকারি গাছ কর্তন


প্রকাশিত: ০৬:২৪ এএম, ৩১ মে ২০১৬

ঝালকাঠির নলছিটির দপদপিয়া ইউনিয়নে মহাসড়কের পাশ থেকে রাতের আঁধারে বন বিভাগের গাছ কেটে নিচ্ছে একটি চক্র। এ ব্যাপারে বন বিভাগে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল-পটুয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ১৯৮৮ সালে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় একটি কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করে বন বিভাগ। এর মধ্যে মেহগনি, রেইনট্রি, আকাশমনি, বাবলা ও শিশু গাছ রয়েছে।

গত ২৮ বছরে গাছগুলো ২২ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত বেড়ে উঠেছে। নলছিটির দপদপিয়া ইউনিয়নে মহাসড়কটির ছয় কিলোমিটার জুড়ে সরকারি এ গাছগুলোর প্রতি নজর পড়ে স্থানীয় ‘গাছখেকো’ একটি চক্রের। গত এক বছরে রাতের আঁধারে তারা অনেক গাছ করাত দিয়ে কেটে নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি গাছ কেটে নেয়া হয়েছে ভরতকাঠি গ্রাম থেকে। মাঝেমধ্যে স্থানীয়দের কাছে ধরা পড়লেও চক্রটির ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না কেউ।

 নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত ১৮ মে রাতে ভরতকাঠি গ্রামে দপদপিয়া ইউনিয়ন কলেজের সামনে সড়কের পাশে বন বিভাগের লাগানো ৫০ ফুট লম্বা ও চার ফুট প্রস্থ একটি শিশু গাছ করাত দিয়ে কাটে তিন যুবক। গাছটি মাটিতে পড়ার শব্দ শুনে এগিয়ে আসে স্থানীয় লোকজন। এর আগেই করাত ফেলে পালিয়ে যায় চক্রটি।

পরে নলছিটি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আতিকুল ইসলাম ও মাইনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছটি স্থানীয় সুমন আকনের জিম্মায় রেখে আসেন। তবে এক বছরে শুধু ভরতকাঠি গ্রাম থেকেই ২০-২৫টি গাছ কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গাছ কাটার পর টমটম গাড়িতে তুলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সটকে পড়ে তারা।

পরে খয়রাবাদ নদীর বীরনারায়ণ ট্রলার ঘাট থেকে ট্রলারে করে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে নিয়ে পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়। গাছ কাটার সময় নলছিটি থানায় খবর দিলেও ১২ কিলোমিটার দূরে ভরতকাঠি গ্রামে পুলিশ পৌঁছার আগেই পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

সূত্র জানায়, ভরতকাঠি গ্রামের শাহজাহান মিরার ছেলে ইমরান মিয়া, শেখরকাঠি গ্রামের বাদশা হাওলাদারের ছেলে সুমন হাওলাদার ও সুন্দর মাঝির ছেলে কবির মাঝি চক্রটির মূলে রয়েছে। তারা আরো কিছু লোক ভিড়িয়ে সরকারি গাছ কাটা চক্র গড়ে তুলেছে। তাদের ভয়ে স্থানীয় লোকজন গাছ কাটার বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না।

কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে নানা ধরনের ভয় দেখানো হয়। ডাকাতি, লুটপাটের হুমকিও দেয় তারা। এরপরও দুর্বৃত্তরা গাছ কেটে নিচ্ছে উল্লেখ করে নলছিটি উপজেলা বন বিভাগের কাছে অভিযোগ করেছে স্থানীয় লোকজন। এর আগে বন বিভাগ অভিযোগ তদন্ত করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় ‘গাছখেকোরা’।

ভরতকাঠি গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘গত ১৮ মে রাতে আমি বাড়ি যাওয়ার পথে দেখি ইমরান, কবির ও সুমন একটি শিশু গাছ কাটছে। পরে লোকজন এসে পড়লে তারা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে নলছিটির পুলিশ আসে। তারা একটি করাত ও গাছটি জব্দ করে। এ ব্যাপারে একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছে পুলিশ।’

ইমরান মিয়া বলেন, ‘আমরা সরকারি গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত নই। আমাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি গ্রুপ মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে। আমরা কখনোই গাছ কেটে বিক্রি করিনি।’

নলছিটি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘গাছ কাটার খবর পেয়ে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে একটি ৫০ ফুট লম্বা শিশু গাছ জব্দ করি। এ ব্যাপারে একটি জিডি করা হয়েছে। জিডির তদন্ত চলছে।’

নলছিটি উপজেলা বন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘প্রায়ই ওই সড়কের গাছ কেটে নেয়ার খবর আমাদের কাছে আসে। স্থানীয়রা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত করছে। আমরাও খোঁজ খবর নিচ্ছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আতিকুর রহমান/এসএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।