ব্যবসায়ী এ্যানির বছরে আয় ৪৭ লাখ টাকা, রয়েছে ১২০ ভরি সোনা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৯:৫৬ পিএম, ০১ জানুয়ারি ২০২৬
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি/ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার তিন কোটি ৯০ লাখ ৩১ হাজার ৬৭ টাকার সম্পদ রয়েছে। বছরে আয় ৪৭ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪ টাকা। তার সহধর্মিণীর সম্পদের পরিমাণ তিন কোটি ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৬৭ টাকা। বছরে আয় ২৩ লাখ ১ হাজার ৩৬৮ টাকা।

এ্যানি চৌধুরী লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সমসেরাবাদ এলাকা মৃত বশির উল্লাহ চৌধুরীর ছেলে। এ্যানি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

হলফনামা অনুযায়ী এ্যানি চৌধুরী এসএস কোম্পানি, রি রয়েল প্রোপার্টিজ ও মেসার্স বিইউ চৌধুরী অটো ফ্লাওয়ার মিলসের স্বত্বাধিকারী। এছাড়া তিনি রাইট গার্মেন্টস লিমিটেড, এগ্রো এনার্জি (প্রা.) লিমিটেড ও টিপ্পানি মার্বেল বিডি লিমিটেডের পরিচালক।

তার স্ত্রী পারভীন আক্তার চৌধুরীও পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি সাবরান এসএস কোম্পানির স্বত্বাধিকারী ও ইনবিল্ড রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের পরিচালক। পাশাপাশি তিনি সৈয়দ ট্রেজার্স বাদার্স লিমিটেড ও ঢাকা হাইড অ্যান্ড স্কিন লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার।

হলফনামা ঘেঁটে জানা যায়, এ্যানি চৌধুরীর নামে ৬০টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে কয়েকটি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। কয়েকটি মামলায় তাকে অব্যাহতি, হাইকোর্টের নির্দেশে কার্যক্রম স্থগিত ও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এ্যানি চৌধুরীর কাছে নগদ ৯৬ হাজার ৭৮১ টাকা রয়েছে। স্ত্রীর কাছে রয়েছে এক লাখ ৩২ হাজার ২০৯ টাকা। এ্যানির ঢাকা ব্যাংকে ৩০ লাখ ৮৫ হাজার ৫১৯ টাকা, এনসিসি ব্যাংকে (ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রি রয়েল প্রোপার্টিজ) ১১ লাখ ৫১ হাজার ১৬১ টাকা, মার্কেন্টাইল ব্যাংকে (ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান চৌধুরী এসএস কোম্পানি) তিন কোটি ৬১ লাখ ৬৩০ টাকা, মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ব্যক্তিগত হিসাবে ২৯ হাজার ৪৭৪ ও অগ্রণী ব্যাংকে ২০ লাখ টাকা রয়েছে।

রাইট গার্মেন্টস লিমিটেডে ৯০ হাজার টাকা, টিপ্পানি মার্বেল বিডি লিমিটেডে দুই লাখ টাকা, এগ্রো এনার্জি (প্রা.) লিমিটেডে পাঁচ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। তার নিজের মালিকানাধীন বিজনেস ক্যাপিটেলে ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৪১০ টাকা রয়েছে।

এ্যানি চৌধুরীর প্রায় ৬১ লাখ ৭৬ হাজা টাকা মূল্যের একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার স্টেশন ওয়াগার জিএক্স গাড়ি রয়েছে। বিয়ের সময় উপহার হিসেবে প্রাপ্ত ১২০ ভরি এবং স্ত্রীর ৩০ ভরি সোনা রয়েছে। রয়েছে এক লাখ টাকার ইলেকট্রিক পণ্য ও দুই লাখ টাকার আসবাবপত্র। তিনি এক কোটি ৪২ লাখ টাকা আর্থিক লোন প্রদান করেছেন।

১০ লাখ টাকা দিয়ে বোট ক্লাবের ও এক লাখ টাকা দিয়ে নোয়াখালী ক্লাবে মেম্বারশিপ নিয়েছেন এ্যানি। এসব সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে তিন কোটি ২৫ লাখ ২৭ হাজার ৫৭১ টাকা। যার বর্তমান মূল্য পাঁচ কোটি ৩৬ লাখ ৪৫ হাজার ৫৭১ টাকা।

স্থাবর সম্পত্তিতে উল্লেখ করা হয়, এ্যানি চৌধুরীর প্রায় ৪০ লাখ টাকার জমি রয়েছে। লক্ষ্মীপুরে পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত পায় ১২৭ শতাংশ জমি রয়েছে। তার নামে রাজধানীর বনানী মডেল টাউনে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৫ কাঠা জমি, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ১০ লাখ টাকা মূল্যে ৫ কাঠা জমি আছে। লক্ষ্মীপুরে নির্মাণাধীন একটি আবাসিক ভবনের এক ষষ্ঠাংশের মালিকানা (মূল্য ৯ লাখ ১৬ হাজার ১৮৯ টাকা) রয়েছে। তেজগাও বাণিজ্যিক এলাকায় ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের ৩৬০০ স্কয়ার ফুটের একটি গোডাউন রয়েছে। এক লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিয়োগ রয়েছে বাকুশা হকার্স মার্কেট সমবায় সমিতিতে। উল্লেখিত সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য এক কোটি ৪২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৯৯ টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী মার্কেন্টাইল ব্যাংকে এ্যানির ব্যক্তিগত দুটি হিসাবের ক্রেডিট কার্ডের ২৪ হাজার ৪১২ টাকা, ব্যক্তিগত ঋণ ৩০ লাখ টাকা, জমি ও গোডাউন ভাড়া থেকে ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা দায় রয়েছে।

স্ত্রীর নামে এক কোটি ৯৮ লাখ ৩৬ হাজার ২০৮ টাকা ব্যবসায়িক ও ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৮ টাকা কার লোন। তার মার্কেন্টাইল ব্যাংকের দুটি হিসাবে ২ লাখ ২৭ হাজার ২৮২ টাকা দায় রয়েছে। তার ব্যক্তিগত লোন রয়েছে এক কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং জমি বিক্রির অগ্রিম এক কোটি টাকা দায় রয়েছে।

কাজল কায়েস/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।