বাণিজ্য মেলায় ক্রেতাদের নজর কাড়ছে মাটির তৈরি তৈজসপত্র

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৪:৩৮ পিএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়নে শোভা পাচ্ছে নানান সামগ্রী। মেলায় মাটির তৈরি তৈজসপত্রের প্যাভিলিয়ন শাহ পড়ান মৃৎশিল্প ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই প্যাভিলিয়নটিতে শোভা পেয়েছে মাটির তৈরি অসংখ্য গৃহস্থালি তৈজসপত্র। এসব পণ্য কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় শাহপরান মৃৎশিল্পের প্যাভিলিয়নে গিয়ে এমনই চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্যাভিলিয়নটির প্রতিটি দেওয়ালে স্তরে স্তরে সাজানো মাটির তৈরি সাধারণ প্লেট, বিরিয়ানির প্লেট, গ্লাস, গামলা, ডিনার সেট, গিফট আইটেম, শোপিস, ফুলদানি, ব্যাংক, কাপ-পিরিচ, সাধারণ প্লেট, বিরিয়ানির প্লেট, গ্লাস, গামলা, ডিনার সেট, গিফট আইটেম, শোপিস, ফুলদানি, ব্যাংক ইত্যাদিসহ শত শত ধরনের বিভিন্ন তৈজসপত্র শোভা পাচ্ছে।

বাণিজ্য মেলায় ক্রেতাদের নজর কাড়ছে মাটির তৈরি তৈজসপত্র

বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের মূল ভবনের ভেতরের দক্ষিণ-পশ্চিমে চোখে পড়বে মৃৎশিল্পের তৈরি তৈজসপত্রের এই প্যাভিলিয়নটি।

এক সময় গ্রামবাংলায় গৃহস্থালির ব্যবহারিক অধিকাংশ জিনিসপত্রই ছিল মাটির তৈরি। তবে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প এখন হারাতে বসেছে তার ঐতিহ্য। কিন্তু মাটির তৈরি জিনিসপত্রের প্রতি আলাদা টান রয়ে গেছে অনেকের মনে। শৌখিন মানুষের ইচ্ছে থাকলেও বিশেষ করে রাজধানীর গুটিকয়েক দোকান ছাড়া মাটির তৈজসপত্র পাওয়া বেশ কঠিন।

মাটির তৈরি গৃহস্থালি পণ্য কিনছিলেন শামিমা বেগম। তিনি জানান, বর্তমান আধুনিকতার ছোঁয়ায় মাটির তৈরি গৃহস্থালি সামগ্রী এখন আর তেমন ব্যবহার করা হয় না। এখন মেলামাইন আর প্লাস্টিক এই স্থান দখল করেছে। অথচ প্লাস্টিক মেলামাইনের চেয়ে মাটির তৈরি জিনিসপত্র স্বাস্থ্যকর। এছাড়া দেখতেও সুন্দর ও দামে সস্তা। এজন্য মাটির জিনিসপত্র কিনছি।

মাটির তৈরি তৈজসপত্র কিনছিলেন স্কুলশিক্ষক মোতাহার হোসেন। তিনি জানান, সুন্দরভাবে ঘর সাজাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রুচিবোধ। কম খরচেই মাটির তৈরি জিনিসপত্র দিয়ে ঘর সাজানো যায়। মাটির তৈরি এমন ভিন্ন ধাঁচের কিছু জিনিস ঘরকে খুব সহজেই বেশি গ্রহণযোগ্য ও কৌতূহলোদ্দীপক করে তোলো। তাই মাটির তৈরি পুতুল, ফুলদানি, মোমদানি, ল্যাম্পসহ কিছু শো’পিস কিনলাম।

শাহপরান মৃৎশিল্প স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধি শোয়েব আহমেদ জানান, মেলার প্রথম দুদিন তেমন বেচা বিক্রি না হলেও সোমবার থেকে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। মাটির তৈরি গৃহস্থালি জিনিসপত্রের দিকে এখনো কিছু মানুষের টান রয়েছে।

বাণিজ্য মেলায় ক্রেতাদের নজর কাড়ছে মাটির তৈরি তৈজসপত্র

মেলায় শাহপরান মৃৎশিল্প স্টলের মালিক শাহপরান জানান, তিনি প্রায় ২০ বছরের অধিক সময় ধরে এই মাটির তৈরি আসবাবপত্র নিয়ে কাজ করছেন। মাটির তৈরি জিনিসপত্রগুলো কাচের থেকেও বেশ স্থায়ী হয়। কারণ ৮৫০ ডিগ্রি টেম্পারেচারে মাটির পাত্রগুলো পোড়ানো হয়। মাটির এসব জিনিসের চাহিদা বেশি তরুণদের কাছে।

তিনি জানান, তার এখানে প্রতি পিস কাপ-পিরিচের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। থালা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। ফুলদানি ১২০ থেকে ২০০ টাকা। ব্যাংক ৪০ থেকে ২০০ টাকা। ওয়ালমেট ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। মাটির হাঁড়ির দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা ধরে বিক্রি করা হচ্ছে। এবার মেলায় বেচাবিক্রি অন্যবারের চেয়ে বেশ ভালো হবে বলে আশা করছেন তিনি।

বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৭টি প্যাভিলিয়ন/স্টল/রেস্টুরেন্ট, দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মেলায় সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান/খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলবে।

নাজমুল হুদা/এনএইচআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।