নেত্রকোনায় বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে জখম
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে রঞ্জিত চন্দ্র কর (৫৫) নামে এক বিএনপি নেতাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখমের ঘটনা ঘটেছে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ এ হামলা চালায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গতকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার ভটিপাড়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত রঞ্জিত চন্দ্র কর উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের ভাটাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
জানা যায়, হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসক।
এ ঘটনায় শনিবার আহতের বড় ভাই অনিল চন্দ্র কর বাদী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এতে ভাটাপাড়া গ্রামের সরজিত চন্দ্র কর (৩২), প্রদীপ চন্দ্র কর(২৮), সঞ্জিত চন্দ্র কর(৪০) ও সুশীল চন্দ্র করসহ (৬৫) প্রতিপক্ষের ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ, পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা রঞ্জিত চন্দ্র করের সঙ্গে একই গ্রামের সুশীল চন্দ্র করদের জমিজমাসহ নানান বিষয়াদি নিয়ে পূর্ব বিরোধ চলছিল। এরই জেরে রঞ্জিত চন্দ্রকে আক্রমণের পরিকল্পনা করেন প্রতিপক্ষের লোকজন। শুক্রবার সকালে উকিল মুন্সী বাজারে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন রঞ্জিত চন্দ্র কর। বাড়ির অদূরে নির্মাণাধীন সেতুর পাশে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সরজিতসহ অন্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রঞ্জিতের ওপর হামলা চালায়।
এসময় লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে রঞ্জিতের দুই পা ও শরীরে গুরুতর জখম করে। রঞ্জিতের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন আহত রঞ্জিত চন্দ্র করকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মমেক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।
আহত রঞ্জিত চন্দ্র করের বড় ভাই অনিল চন্দ্র কর বলেন, আমাদের ভাটাপাড়া গ্রামটি এ ইউনিয়নের মধ্যে হিন্দু সংখ্যা গরিষ্ঠ গ্রাম হিসেবে পরিচিত। আমরা সাত ভাইয়ের মধ্যে পাঁচ ভাইয়ের পরিবারের সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছি। কিন্তু আমার অন্য দুই ভাইসহ পুরো গ্রামের লোকজনই আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা নির্যাতনের মধ্য দিয়ে পার করেছি। যেকোনো বিষয় নিয়ে আমার দুই ভাইসহ গ্রামের লোকজন এক হয়ে আমাদের ওপর অত্যাচার চালায়। আওয়ামী লীগ সরকার চলে গেলেও আমাদের ওপর অত্যাচার কমেনি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ ব্যাপারে মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এইচ এম কামাল/এমএন