নারায়ণগঞ্জ

বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, বোমা বিস্ফোরণ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৮:১০ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে যৌথবাহিনী কয়েকজনকে আটক করে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে ফতুল্লার শিহাচর হাজীবাড়ি মোড় এলাকায় ফতুল্লা থানা তাঁতীদলের সভাপতি ইউনুস মাস্টার ও ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের সময় বিকট শব্দে বোমা বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে এলাকাবাসী ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে দেন। এসময় উভয় গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। এতে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিক আহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনায় যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে উভয় গ্রুপের ৮ জনকে আটক করেছে। আটকরা হলেন- কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন, আকাশ, জুয়েল, রিয়াজুল, রাজিব, জিহাদ ও রশিদ।

বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, বোমা বিস্ফোরণ

এসময় ফতুল্লা থানা তাঁতীদলের সভাপতি ইউনুস মাস্টার কৌশলে পালিয়ে যান। আটকদের কয়েকজনের কাছ থেকে গাঁজা ও হেরোইন জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিহাচর হাজীবাড়ি মোড় এলাকায় ইউনুস মাস্টার ও কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কলকারখানার ওয়েস্টেজ মাল ও ভূমি দস্যুতা, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই এবং এলাকার মাতব্বরী নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সেই বিরোধের জের ধরে শনিবার দুপুর থেকে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

উভয় গ্রুপের কয়েকশ জন ধারালো দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেয়। একপর্যায়ে বিকেলে উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় ব্যাপক বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃস্টি করে ধারালো অস্ত্র হাতে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় ধারালো অস্ত্র ও ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ৮ জন আহত হন।

জানা যায়, প্রায় ১৫-২০ মিনিট ধরে এ সংঘর্ষ চলে। এরপর পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ধাওয়া করে উভয় গ্রুপের ৮ জনকে আটক করে।

বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, বোমা বিস্ফোরণ

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উভয় গ্রুপের নেতাসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিলে সাধারণ মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, উভয় গ্রুপের ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কয়েকজনের কাছ থেকে গাঁজা ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে বিস্ফোরিত বোমার কিছু অংশ। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন অফিসারদের জানানো হয়েছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এমএন

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।