শাশুড়ির ভালোবাসায় মুগ্ধ ফরাসি বধূ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৮:২২ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

ছোটবেলা থেকে মায়ের ভালোবাসা না পেলেও শাশুড়ির ভালোবাসায় মুগ্ধ ফরাসি বাংলাদেশি পুত্রবধূ সিনথিয়া ইসলাম। এজন্যই বারবার ছুটে আসতে চান শ্বশুরবাড়ি লক্ষ্মীপুরে। ৮ বছর আগে বিয়ে হলেও সিনথিয়া এনিয়ে ৫ বার শ্বশুরবাড়ি এসেছিলেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বেড়ানো শেষে তারা আবার ফ্রান্সে ফিরে গেছেন।

এদিকে স্বামী আরিফুল ইসলাম রাসেল আর সিনথিয়ার প্রেম-স্মৃতি-ভালোবাসার সুখকর মুহূর্ত আপডেট দিচ্ছেন ফেসবুক পেজে। তারা সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশকে উপস্থাপন করছেন। ১ বছর ৯ মাসে ২.১ মিলিয়ন ফলোয়ারের ভালোবাসা পেয়েছেন তারা।

২০১৭ সালে খ্রিষ্টান থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে লক্ষ্মীপুরের রাসেলের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সিনথিয়া। তার পূর্বের নাম ছিল অম। তাদের সংসারে আমেনা ইসলাম (৬), আলিফ ইসলাম (৪) নামের সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি রাসেল স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছেন। তারা মেঘনা নদী এলাকাসহ লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরে গ্রামীণ পরিবেশে আনন্দ উদযাপন করেন।

আরিফুল ইসলাম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রাজিবপুর এলাকার সমসের উদ্দিন খলিফা বাড়ি মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে। সিনথিয়া ফ্রান্সের লারোসাল শহরের পচিচ জুবের মেয়ে।

রাসেলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১১ সালে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ড যান। সেখান থেকে ২০১৩ সালে তিনি ফ্রান্সে যান। সেখানে সিনথিয়ার সঙ্গে রাসেলের পড়ালেখা এবং পরিচয়। সিনথিয়ার এক বান্ধবীকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে যান তিনি। কিন্তু ঘটনাস্থলে সিনথিয়ার হাসিতে ফেঁসে যান। প্রেমের সম্পর্ক থেকে তাদের বিয়ে-সংসার। ছোট বেলায় সিনথিয়ার মা-বার বিচ্ছেদ হয়। এরপর মায়ের আদর-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত তিনি।

শাশুড়ির ভালোবাসায় মুগ্ধ ফরাসি বধূ

ইংরেজি জানলেও ফ্রান্সের মানুষ ফরাসি ভাষায় কথা বলেন। এতে সম্পর্কে মাঝখানে ভাষা জটিলতায় পড়েছেন রাসেল। সিনথিয়ার সঙ্গে কথা বলতে হলে তাকে সহযোগিতা নিতে হতো গুগল ট্রান্সলেটের। এভাবে এক বছর যায় তার ভাষা জটিলতা থেকে বের হতে। একপর্যায়ে সিনথিয়ারও বাংলা ভাষা শেখার জন্য আগ্রহ জাগে।

রাসেল বলেন, ‘২০১৭ সালে লক্ষ্মীপুরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের মাধ্যমে তার নাম অম থেকে সিনথিয়া ইসলাম রাখা হয়। পরে ইসলামিক রীতিনীতি অনুযায়ী বিয়ে হয়। আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে পরবর্তীতে যদি কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারি তাহলে আমি ৬ মাস করে বাংলাদেশে ও ফ্রান্সে থাকবো। বাচ্চাদেরকে আমাদের দেশের সংস্কৃতি শেখানো যাবে। সঙ্গে তারা যেন মায়ের দেশের কথাও যেন না ভুলে।’

কন্টেন্ট ক্রিয়েট নিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষের ভালোবাসা পেতে হলে সেক্রিফাইস করতে হবে। কন্টেন্ট ক্রিয়েটের সবকিছু আমিই করি। মাঝে মাঝে সিনথিয়া কিছু আইডিয়া দেয়। তার চালচলন কথাবার্তা মানুষ বেশি ভালোবাসে।’

লক্ষ্মীপুরে অবস্থানকালে সিনথিয়া গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘বাংলাদেশে পরিবারের বন্ধন, একে অপরের প্রতি ভালোবাসা সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। এমন সম্পর্ক আসলে বিদেশে দেখা যায় না। এ দেশের সামাজিকতাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। শাশুড়ির হাতে বানানো পিঠা তার অনেক পছন্দের খাবার।’

কাজল কায়েস/আরএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।