সিরাজগঞ্জে নেই জলাতঙ্কের টিকা, বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭:০৪ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে একমাস ধরে মিলছে না জলাতঙ্কের (অ্যান্টি রেবিস) টিকা। এতে পোষা প্রাণীর কামড়ে বাড়ছে জলাতঙ্ক রোগের শঙ্কা। আক্রান্তদের কেউ কেউ ফার্মেসি থেকে চড়া দামে টিকা কিনে প্রয়োগ করলেও ভোগান্তির কারণে ক্ষুব্ধ রোগী ও স্বজনরা। অথচ, এটি জেলার একমাত্র জলাতঙ্কের টিকা কেন্দ্র।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে কথা হয় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গজারিয়া গ্রামের জেমি খাতুনের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, তার চার বছরের আয়রাতুল ইসলাম নামের এক শিশুকে বিড়াল কামড় দিয়েছেন। এ জন্য তিনি তার শিশু সন্তানকে নিয়ে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর জানতে পারেন হাসপাতালে জলাতঙ্ক রোগের টিকা নেই। এতে হতাশ হন তিনি। পরে জানতে পারেন বাইরে থেকে কিনে আনতে হবে। এরপর আরও তিনজন রোগীর সঙ্গে যৌথভাবে শহরের একটি ফার্মেসি থেকে ৭০০ টাকায় কিনে আনলে নার্স পুশ করে দেন।

জেমি খাতুনের মতো প্রতিদিন বহু মানুষ কুকুর, বিড়ালসহ বন্যপ্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ছুটে যান। কিন্তু টিকা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আবার বাইরের ফার্মেসিগুলোতে নির্দিষ্ট দামে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত এ ইনজেকশন। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কুকুর বা বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত শতশত মানুষ।

সিরাজগঞ্জে নেই জলাতঙ্কের টিকা, বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কুকুর, বিড়ালসহ বন্যপ্রাণী আক্রান্ত মানুষদের সাত দিনের মধ্যে জলাতঙ্ক রোগের টিকার তিনটি ডোজ নিতে হয়। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ফ্রিতে এ টিকা প্রদান করা হয়। কিন্তু গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে র‌্যাবিস ভাইরাস প্রতিরোধী টিকা হাসপাতালে সরবরাহ নেই। অথচ, প্রতিদিন দেড়শ থেকে দুইশ মানুষ সেবা নিতে আসেন, যার মধ্যে বেশিরভাগ শিশু। এতে রোগীদের খরচের সঙ্গে বেড়েছে ভোগান্তি।

সদর উপজেলার কান্দাপাড়া এলাকার আব্দুল খালেক বলেন, ছেলেকে কুকুর কামড় দিয়েছে। তাই সরকারি হাসপাতালে ফ্রিতে সেবা নিতে আসছিলাম। কিন্তু টিকা না পাওয়ায় বাইরের ফার্মেসি থেকে টাকা দিয়ে কিনে এনে সেবা নিতে হল। তিনি বর্তমান সরকারের উদাসীনতায় টিকা পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করছেন।

হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন গজারিয়া গ্রামের আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ছেলেকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। দ্রুত হাসপাতালে ছুটে এসেছি, কিন্তু এসে শুনি টিকা নেই। পরে বাধ্য হয়ে ফার্মেসি থেকে ৮০০ টাকায় কিনে এনে পুশ করেছি। এমনটা হবে জানলে সরকারি হাসপাতালে আসতাম না।

সিরাজগঞ্জে নেই জলাতঙ্কের টিকা, বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স আয়শা খাতুন জাগো নিউজকে বলেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। প্রতিদিনই ১২০ থেকে ১৬০ জন রোগী আসছে। কিন্তু জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ নেই। টিকা পাওয়া না গেলে রোগীদের ভোগান্তি কমবে কীভাবে। আমরা ঊর্ধ্বতনদের বার বার বলেও কোনো সমাধান পাচ্ছি না।

সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আকিকুন নাহার মনি জাগো নিউজকে বলেন, প্রায় এক মাস ধরে হাসপাতালে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। আমরা এজন্য নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছি। ফলে বাইরের ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে রোগীদের। তবে শিগগির এ সমস্যার সমাধান হবে তিনি আশা করেন।

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, সাময়িকভাবে জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে কবে নাগাদ টিকা মিলবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তা ঠিক নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

এম এ মালেক/আরএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।