ভিড় এড়াতে ঈদের পার্লার রুটিন সাজাবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৬ এএম, ০৪ মার্চ ২০২৬
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো

ঈদ মানেই নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা। এই খুশির উৎসবে অফিস-সংসারের সব কাজ সামলিয়ে নারীরা নিজের জন্য একটু সময় বের করে। নতুন পোশাক, ঝলমলে সাজ আর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি সব মিলিয়ে তারা যেন নিজেকে চেনেন নতুন ভাবে। তবে এই আনন্দের প্রস্তুতির মাঝেই অনেক সময় পার্লারের অতিরিক্ত ভিড়, দীর্ঘ অপেক্ষা আর শেষ মুহূর্তের হুড়োহুড়ি পুরো অভিজ্ঞতাকে তিক্ত করে ফেলে। বিশেষ করে চাঁদরাতের আগে তো পার্লারে একপ্রকার যুদ্ধের মতো অবস্থা। সিট পাওয়া দায়, পছন্দের বিউটিশিয়ান পাওয়াতো যুদ্ধ জয়ের মতো।

তাই ঈদের সাজে নিখুঁত ছোঁয়া রাখতে চাইলে প্রয়োজন একটু আগেভাগে পরিকল্পনা। কোন সেবা কতদিন আগে নেবেন, কোনটা একেবারে শেষ মুহূর্তে করা ভালো আর কোন কাজগুলো বাড়িতেই সেরে নেওয়া যায় এসব ভেবেচিন্তে একটি পার্লার রুটিন সাজালে ভিড়ও এড়ানো যাবে, আবার নিজের লুকও থাকবে সতেজ ও পরিপাটি। ঈদের প্রস্তুতি হোক ঝামেলাহীন, সাজ হোক আত্মবিশ্বাসে ভরা।

চুল

আর কিছুদিন পরই ঈদ, তাইতো অনেকেই ভাবছেন নতুন হেয়ারকাটের কথা। তাহলে দেরি না করে এখনই হেয়ারকাটের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিন। নির্দিষ্ট কোনো উৎসবকে সামনে রেখে চুল কাটাতে চাইলে অন্তত ১৫ দিন আগে সেলুনে যাওয়া ভালো। কারণ চুল কাটার পর প্রথম কয়েক দিন সেটি খানিকটা অচেনা লাগে। কাট ঠিকভাবে বসতে এবং স্বাভাবিক আকার নিতে কিছুটা সময় দরকার হয়।

ভিড় এড়াতে ঈদের পার্লার রুটিন সাজাবেন যেভাবে

অনেক সময় দেখা যায়, যেভাবে ভেবে চুল কাটা হয়েছিল, সেটি মুখের গড়ন বা স্টাইলের সঙ্গে পুরোপুরি মানাতে একটু সময় নেয়। হাতে বাড়তি সময় থাকলে প্রয়োজনে সামান্য ট্রিম বা শেপ ঠিক করে নেওয়ার সুযোগ থাকে। এমনকি পুরোনো কোনো পরিচিত কাট পুনরায় করালেও ১৫ দিনের ব্যবধান রাখাই নিরাপদ।

চুলে যদি এমন কোনো স্টাইল করতে চান, যেখানে রাসায়নিক ব্যবহার হয়, যেমন-চুলে রং করা বা রিবন্ডিং তবে সেটিও ঈদের অন্তত ১৫ দিন আগে শেষ করুন। এসব প্রক্রিয়ার পর চুলের টেক্সচার ও লুক স্থিতিশীল হতে সময় লাগে। আবার কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট উপাদান প্রয়োগের পর ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার নির্দেশনা থাকে। তাই ঈদের আগের দিন হুট করে এসব কাজ করাতে গেলে ঝুঁকি থেকেই যায়।

অন্যদিকে, চুলে প্রাণ ফেরাতে চাইলে ঈদের দুই থেকে তিন দিন আগে হেয়ার স্পা বা ডিপ কন্ডিশনিং করানো যেতে পারে। এতে চুল থাকবে নরম, ঝরঝরে এবং উজ্জ্বল; ঈদের দিন লুক হবে আরও সতেজ।

আরও পড়ুন: 

মুখ ও ভ্রু

ফেশিয়াল করার সময় নির্ধারণের আগে জেনে নেওয়া জরুরি কোন ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হবে। যেসব ফেশিয়ালে রাসায়নিকের ব্যবহার নেই, সেগুলো ঈদের দুই থেকে পাঁচ দিন আগে করালেই যথেষ্ট। এতে ত্বক থাকবে ফ্রেশ এবং উজ্জ্বল।

তবে ফেয়ার পলিশ বা হোয়াইটেনিংয়ের মতো যেসব ফেশিয়ালে রাসায়নিক উপাদান ব্যবহৃত হয়, সেগুলো ঈদের অন্তত ১০ থেকে ১২ দিন আগে করানো উচিত। ত্বককে রিঅ্যাকশনমুক্ত রাখতে এবং ফলাফল স্থায়ীভাবে পেতে এই সময় ব্যবধান প্রয়োজন। যদি চুলের কাজের জন্য ঈদের ১৫ দিন আগে পার্লারে যান, তাহলে সেই সময়ই কোনো অ্যাডভান্সড ফেশিয়াল সেরে নেওয়া সুবিধাজনক।

ভিড় এড়াতে ঈদের পার্লার রুটিন সাজাবেন যেভাবে

নিয়মিত ফেশিয়াল করিয়ে থাকলে তার বাইরে বিশেষ কোনো ফেশিয়াল নিতে চাইলে পার্লারের পরামর্শ নিয়ে আগেভাগে পরিকল্পনা করে নিন। আর মেছতা, ব্রণ বা ত্বকের অন্য কোনো সমস্যার জন্য চিকিৎসা চলমান থাকলে তা বন্ধ করা যাবে না, বরং সেই চিকিৎসার সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে সৌন্দর্যচর্চার পরিকল্পনা করুন।

ভ্রুর আকৃতিতে পরিবর্তন আনতে চাইলে ঈদের তিন থেকে চার দিন আগে করানোই ভালো। এতে ভ্রু স্বাভাবিকভাবে বসে যাবে এবং ঈদের দিনে লুক হবে পরিপাটি।

হাত-পা ও দেহ

মেহেদি পরার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় ঈদের আগের দিন। এতে রং গাঢ় হওয়ার সুযোগ পায় এবং ঈদের সকালে হাতে-পায়ে ফুটে ওঠে উজ্জ্বল আভা।

ভিড় এড়াতে ঈদের পার্লার রুটিন সাজাবেন যেভাবে

ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর করাতে চাইলে ঈদের দুই-এক দিন আগে সেরে নিন। এতে নখ ও হাত-পা থাকবে পরিষ্কার ও পরিপাটি। ওয়াক্সিং করানোর ক্ষেত্রে তিন থেকে চার দিন আগে সময় ঠিক করাই ভালো, বেশি আগে করলে আবার লোম গজিয়ে উঠতে পারে।

বডি স্ক্রাবিং করতে চাইলে ঈদের তিন-চার দিন আগেই করিয়ে ফেলুন। এতে ত্বক থাকবে মসৃণ ও সতেজ, আর ঈদের সাজে যোগ হবে বাড়তি দীপ্তি।

জেএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।