এসি রবিউলের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম


প্রকাশিত: ০৮:৪৯ এএম, ০২ জুলাই ২০১৬

গুলশানের রেস্তোরাঁয় গোলাগুলিতে নিহত পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলামের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের কাটিগ্রামে শোকের মাতম চলছে। ছেলের অকাল মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই বাকরুদ্ধ রবিউলের মা করিমন নেছা ও তার দাদি।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা থেকে রবিউলের অন্তঃস্বত্তা স্ত্রী উম্মে সালমা বেগম (২৯) স্বজনদের সঙ্গে বাড়ি আসেন। ঘরের কাছে এসেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতির অবতারণা ঘটে। এসময় রবিউলের পাঁচ বছরের শিশু সামিও সঙ্গে ছিল।

রবিউল ইসলামের ডাক নাম কামরুল ইসলাম। গ্রামের সবাই তাকে এ নামেই ডাকে। ছোটবেলা থেকেই সাহসী ও মেধাবী ছিলেন রবিউল। সময় পেলেই তিনি গ্রামে ছুটে আসতেন। এলাকার মানুষকে সময় দিতেন, ভালোবাসতেন। বছর দুয়েক আগে তিনি নিজে একটি প্রতিবন্ধী স্কুল খুলেছেন। কয়েকদিন আগে সবশেষ সেই স্কুলের ইফতার মাহফিলে এসেছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল।

Manikganj

সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা রবিউলের অকাল মৃত্যুতে এলাকাবাসীও শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন। শনিবার ভোর থেকে রবিউলের বাড়ি ভিড় করতে শুরু করে এলাকাবাসী। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড়ও বাড়তে থাকে। অতি সহজ-সরল এ মানুষটিকে হারিয়ে হতবাক হয়ে পড়েছেন গ্রামের হাজারো মানুষ। কিছুতেই তারা যেন মেনে নিতে পারছেন না তার এই অকাল মৃত্যু।

জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে স্থানীয় কাটিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করার পর ধামরাই উপজেলার ভালুম আতাউর রহমান খান কলেজ থেকে ১৯৯৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স শেষ করার পর সাংসরিক চাহিদা মেটানোর জন্য পারি জমান ইতালি। সেখানে দুই বছর থাকার পর আবার বাংলাদেশে চলে আসেন।

এরপর ৩০তম বিসিএসে পাস করে যোগদান করেন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে। রবিউল ইসলামের বাবা মৃত আব্দুল মালেক কেয়ার বাংলাদেশের একজন ফিল্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

Manikganj

রবিউল ইসলামের ছোট ভাই সামছুজ্জামান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। রবিউল ইসলামের গ্রামের বাড়ি মা করিমুননেসা ও দাদি বসবাস করেন। রবিউল ইসলাম বিয়ে করেন ধামরাই উপজেলার কালামপুরে।
 
তিনি শুধু একজন পুলিশ অফিসারই ছিলেন না, ছিলেন শিক্ষা বিনির্মাণে এক শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব। নিজস্ব অর্থায়নে এলাকায় নজরুল ইসলাম বিদ্যাসিঁড়ি নামে প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী একটি স্কুল।  

রবিউল ইসলামের চাচা স্থানীয় চেয়ারম্যান বিপ্লব হোসেন সেলিম জানান, রবিউলের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতেই দাফন করা হবে। তবে মরদেহ কখন আসবে এ বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছুই বলতে পারেননি।
 
মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান জানান, নিহত রবিউলের মরদেহ গ্রামের বাড়ি কখন আসবে সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে রাজারবাক পুলিশ লাইনসে তার মরদেহ নেয়া হবে বলে শুনেছেন।

খোরশেদ/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।