নকল পণ্যে সয়লাব ঝালকাঠির ঈদ বাজার


প্রকাশিত: ০৩:০৩ এএম, ০৩ জুলাই ২০১৬

ঝালকাঠি শহরের কুমারপট্টি রোডের ফুটপাতে প্রসাধনীর এক দোকানে ক্রেতার কাছে বিক্রেতা একটি মেহেদির দাম হাঁকাল ৫০ টাকা। ক্রেতা ২৫ টাকা দাম বলার পর বিক্রেতা ৪০, ৩৫ এবং ৩০ টাকা বলতে বলতে শেষ পর্যন্ত ২৫ টাকাতেই তা বিক্রি করল। ক্রেতা চলে যাওয়ার পর দোকানি আবুল হোসেন বললেন, ‘যেমন মাল, তেমন দাম’।

এরপর ওই দোকান থেকে মেহেদির একটি প্যাকেট হাতে নিয়ে দেখা গেল ক্রেতা যেটি কিনেছেন সেটি আসল লিজান মেহেদি নয়। লিজান মেহেদির অবিকল মোড়কে তৈরি করা নকল মেহেদি। তার দোকানের অন্য সব প্রসাধনীই দেশের নামিদামি কোম্পানির মতো মোড়কে এবং একই নামের। ঝালকাঠি শহরের বিভিন্ন ফুটপাথে ঈদ উপলক্ষে যে অস্থায়ী ঈদ বাজার গড়ে উঠেছে তার সবগুলোতেই এমন নকল পণ্যের ছড়াছড়ি।

আলো ঝলমলে অভিজাত বিপণি বিতানগুলোতে যে পোশাক ও প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রি হয়, অবিকল সব কিছুই পাওয়া যায় ফুটপাথের অস্থায়ী ঈদ বাজারে। অভিজাত বিপণিবিতানগুলোতে ‘একদর’ বিক্রির নামে যেমন ক্রেতারা ঠকছেন, আবার ফুটপাথের অস্থায়ী ঈদ বাজারেও দরদাম করে কিনেও ঠকছেন ক্রেতারা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাথের দোকানগুলোতে যে দামে পণ্য ও প্রসাধনী বিক্রি করা হয় তার তিন থেকে চারগুণ বেশি দাম হাঁকা হয়। তারপরও জমজমাট বেচাকেনা হচ্ছে গরিবের ঈদ বাজার নামে পরিচিত কুমারপট্টি ও কাপুরিয়া পট্টি সড়কের ওপর ফুটপাথের অস্থায়ী দোকানগুলোতে।

দোকানিরা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও মধ্য রমজান থেকে অস্থায়ী ঈদ বাজার শুরু হয়েছে। ৭ জুলাই ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। মাসের প্রথম দিকে হওয়ায় ঈদের আগের দিন চাঁদরাতে গভীর রাত পর্যন্ত জমজমাট বেচাকেনা চলবে।

ফুটপাথের অস্থায়ী দোকানগুলো থেকে কোনো ক্রেতা ৫০০ টাকার মধ্যেই প্যান্ট, শার্ট ও জুতা কিনতে পারেন। হাজার টাকায়  মেয়েদের স্যালোয়ার-কামিজসহ সব ধরনের প্রসাধনী সামগ্রী কিনতে পারেন ক্রেতারা। কম টাকা হওয়ায় এসব প্রসাধনী ও পোশাকের গুণগত মান নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামান না ক্রেতারা।

ফুটপাত বিক্রেতারা বলেছেন, আমদানি করা পুরোনো কাপড়ের গাইড কিনে ওইসব প্যান্ট-শার্ট বিক্রি করছেন তারা। শিশুদের পোশাক ঢাকার কেরানীগঞ্জ, সদরঘাট এবং নারায়ণগঞ্জ এলাকায় তৈরি বলে বিক্রেতারা জানান।    

এফএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।