সরে দাঁড়ালেন ৪ জন, যশোরের ছয় আসনে চূড়ান্ত লড়াইয়ে ৩৪ প্রার্থী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৮:২৯ এএম, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটি আসন থেকে তিনজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়া একজন সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন জানান।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারী তিন প্রার্থী হলেন- যশোর-১ আসন থেকে শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসান জহির, যশোর-৩ আসনে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ ও যশোর-৪ আসনে থেকে কৃষকদলের কেন্দ্রীয় নেতা টিএস আইয়ুবের ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান সাজিদ।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন যশোর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা জহুরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব এক বিজ্ঞপ্তিতে তিন প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিন প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে ও তা বিধি অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

আর যশোরের ৩টি সংসদীয় আসনে ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর দুটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। মঙ্গলবার রাতে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন যশোর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম। তবে যশোর-৫ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ মো. ইকবাল হোসেন এখনও লড়াইয়ে রয়েছেন। তিনি মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি। ফলে এই আসনটিতে জামায়াত, স্বতন্ত্র ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে জেলার ৬টি আসনে মোট ৪৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৩৮ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার তিনজনের প্রত্যাহার ও একজনের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর জেলার ছয়টি আসনে এক বিদ্রোহীসহ চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকছেন ৩৪ জন প্রার্থী।

যশোর-১ (শার্শা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চার প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন, জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আজীজুর রহমান, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বখতিয়ার রহমান।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে রয়েছেন সাতজন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপির সাবিরা সুলতানা, জামায়াতে ইসলামীর মোহম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) প্রার্থী ইমরান খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) প্রার্থী শামছুল হক এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) প্রার্থী রিপন মাহমুদ।

যশোর-৩ (সদর) আসনে থাকছেন ছয়জন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল কাদের, জাতীয় পার্টির খবির গাজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) প্রার্থী নিজামদ্দিন অমিত ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (বাসদ) প্রার্থী রাশেদ খান।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে লড়াই করবেন সাতজন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজী, জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রসুল, স্বতন্ত্র এম নাজিম উদ্দীন আল আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী, জাতীয় পার্টির জহুরুল হক ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) প্রার্থী সুকৃতি কুমার মন্ডল।

যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন পাঁচজন প্রার্থী। তারা হলেন, জাতীয় পার্টির এম এ হালিম, জামায়াতে ইসলামীর গাজী এনামুল হক, ইসলামী আন্দোলনের জয়নাল আবেদিন, স্বতন্ত্র শহীদ মো. ইকবাল হোসেন এবং বিএনপির রশীদ আহমাদ।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী রয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির জি এম হাসান, বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ, এবি পার্টির মাহমুদ হাসান, জামায়াতে ইসলামীর মুক্তার আলী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহিদুল ইসলাম।

সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক পাওয়ার পর আগামী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তাদের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের পরিবেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে তৎপর রয়েছে।

নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, যশোরের ৬টি আসনে মোট ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন ভোটার নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মোট ৮২৪টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ৬৭৯টি ভোটকক্ষে ১৪ হাজার ৮৬১ জন ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৮২৪ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৪ হাজার ৬৭৯ জন এবং ৯ হাজার ৩৫৮ জন পোলিং অফিসার নিয়োজিত থাকবেন।

মিলন রহমান/এমএন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।