সুন্দরবনে জেলের মাছ নেওয়ার অভিযোগ কোস্টগার্ড সদস্যদের বিরুদ্ধে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৯:৪৪ এএম, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী এলাকায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের টহলরত সদস্যদের বিরুদ্ধে জেলের নৌকা থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মাছ তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী জেলেদের দাবি, আনুমানিক ২০ কেজি মাছ জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যার বাজার মূল্য ১০ হাজার টাকা।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পশ্চিম সুন্দরবনের মামুদো এলাকার কাঁকড়াখালি খালের অভিমুখে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১০ জানুয়ারি পশ্চিম সুন্দরবনের কদমতলা স্টেশন থেকে বৈধ অনুমতি গ্রহণ করেন জেলে ইমান আলি ও নুর হোসেন। ইমান আলির শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনুমতি নেওয়ার দুই দিন পর তারা সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। মাছ আহরণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কোস্টগার্ড সদস্যরা তাদের নৌকা আটকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং মাছ তুলে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী ইমান আলি বলেন, আমরা বৈধ অনুমতি পত্র দেখালেও কোস্টগার্ড সদস্যরা আমাদের ভারতীয় জেলে বলে চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে নৌকা তল্লাশি করে মাছের বাক্স থেকে প্রায় ২০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে স্পিডবোটে তুলে নেন। মাছ নিতে বাধা দিলে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, অনুমতি নেওয়ার পর অসুস্থতার কারণে দুই দিন দেরিতে বনে প্রবেশ করায় অনুমতির নির্ধারিত সময় তিন দিন অতিক্রম হয়। বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত ফি দিয়ে তা সমন্বয় করা সম্ভব হলেও বিষয়টি নিয়েও তাকে ভয় দেখানো হয়।

একই দিনে সুন্দরবনের মেটে ভাঙার মুখ এলাকা থেকে হরিনগরের জেলে আব্দুল আলীমের নৌকা থেকেও মাছ তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। জেলে সুমনের দাবি, নৌকা থেকে ৫ থেকে ৬ কেজি ওজনের দুটি ভেটকি মাছ কোস্টগার্ড সদস্যরা নিয়ে যান। যার বাজারমূল্য প্রায় ১২ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. ফজলুল হক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কোস্টগার্ড এককভাবে জেলেদের অনুমতিপত্র যাচাই-বাছাই করতে পারেন না। এটি শুধুমাত্র যৌথ অভিযানে সম্ভব। জেলেদের হয়রানির বিষয়টি দুঃখজনক। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের কৈখালী স্টেশনের সরকারি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।

আহসানুর রহমান রাজীব/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।