পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ছেলে গ্রেফতার
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে চেকপোস্টে তল্লাশিকালে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক মো. লিয়নকে (২৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে হালুয়াঘাট বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার লিয়ন হালুয়াঘাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুহুল আমিনের ছেলে। তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে হালুয়াঘাট উপজেলার পৌর বাজার শুঁটকি মহল রোডের পাগলপাড়া ব্রিজ এলাকায় এএসআই নওয়াব আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনা করছিল। এসময় একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দিলে চালক লিয়ন পুলিশের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। তিনি নিজেকে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের ছেলে পরিচয় দিয়ে পুলিশকে হুমকি দেন এবং দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।
এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ সদস্যরা লিয়নের বাসার কাছাকাছি রাস্তায় দায়িত্ব পালন করতে গেলে তিনি ধারালো রামদা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। লিয়ন কর্তব্যরত কনস্টেবল মো. ইজাউল হক ভূঁইয়াকে (এজাজ) লক্ষ্য করে পেছন থেকে কোপ দেন। এতে ওই পুলিশ সদস্যের পিঠে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।
আহত কনস্টেবলকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘মাদক ও বেকারত্বের কারণে যুব সমাজের অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। তবে অপরাধী যে-ই হোক, তাকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার জন্য আমি পুলিশকে অনুরোধ করছি।’
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িত লিয়নকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লিয়নের বাবাকেও থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে লিয়নের মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
কামরুজ্জামান মিন্টু/এসআর/জেআইএম